রাজ্যের সব মাদ্রাসা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের! পূর্ণাঙ্গ তথ্যের রিপোর্ট চাইল নবান্ন

Published:

Nabanna On Madrasa

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিল নবান্ন (Nabanna)। মূলত ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত পরিকল্পনা আরও সহজ করে তুলতে এবং শিক্ষাগত নথিপত্র সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় চলেছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই সমীক্ষার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে সরকার (Government Of West Bengal)। জানানো হয়েছে আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সমীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে (Minority Affairs & Madrasah Education Department) পাঠাতে হবে।

বড় নির্দেশিকা নবান্নের

গতকাল, শুক্রবার, নবান্নের সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত, অস্বীকৃত, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কিংবা সম্পূর্ণ বেসরকারি স্তরে পরিচালিত মাদ্রাসার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। মূলত পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চিত্র ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এই সমীক্ষা। আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই সমীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ করে নবান্নে চূড়ান্ত জেলাভিত্তিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা সমস্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সমীক্ষা

নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি ব্লক এবং পুরসভা এলাকার কোনও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানই এই সমীক্ষার বাইরে থাকবে না। প্রতিটি জেলাশাসকদের তাঁদের নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় কর্মরত সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন করতে হবে। তালিকায় থাকবে সরকারি অনুমোদন বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদ্রাসা, সরকারি খাতায় রেজিস্টার্ড মাদ্রাসা, সরকারি অনুদান পাওয়া এবং অনুদানবিহীন মাদ্রাসা, সম্পূর্ণ রেজিস্টার্ড বা অস্বীকৃত মাদ্রাসা, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা সোসাইটি দ্বারা পরিচালিত মাদ্রাসা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা মালিকানায় চালিত মাদ্রাসা। বিষয়টির গুরুত্ব বিচার করে নবান্নের তরফে একে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন কোন তথ্যের উপর জোর?

জেলাশাসকদের মাদ্রাসা সংক্রান্ত মূলত যে বিষয়গুলির ওপর তথ্য সংগ্রহ করতে হবে সেগুলি হল- মাদ্রাসাটি কোন স্তরের, কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কতজন ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়ছে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক বা শিক্ষাগত বিন্যাস কেমন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলিতে কেমন পড়াশোনা হচ্ছে, মাদ্রাসা ভবন, ক্লাসরুম, পানীয় জল, শৌচাগার থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিকাঠামোগত অবস্থার বর্তমান দশা ইত্যাদি সম্পর্কে নেওয়া হবে তথ্য। তবে যদি কোনও প্রতিষ্ঠানে নিয়মের কোনও অসঙ্গতি কিংবা বেআইনি কার্যকলাপ চোখে পড়ে, তাহলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: এবার বিদ্রোহী বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ? মমতার জন্য আসন ছাড়বেন না ইউসুফ পাঠান!

সতর্কবার্তা নবান্নের

জানা গিয়েছে সরকারের পক্ষে মাদ্রাসা স্তরে ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত পরিকল্পনা আরও সহজ করে তুলতেই নবান্নের তরফে এই ডেটা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যজুড়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিয়েও অত্যন্ত সতর্ক নবান্ন। নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য করা হচ্ছে। কোনও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কোনও পদক্ষেপ বা মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এমনকি কোনও পড়ুয়াকে মাদ্রাসা থেকে উচ্ছেদ করা বা সরিয়ে দেওয়ার মতো কোনও পদক্ষেপ এখনই নেওয়া হচ্ছে না।