সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের অশান্তি (PoK Conflict)। পাকিস্তানি সেনার নৃশংসতায় মৃত্যু হচ্ছে শত শত মানুষের। এমনকি ৬০০ জনের বেশি মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদেরকে লক্ষ্য করেই পাক সেনাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। আর সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারতের সাহায্য চেয়ে পাঠাল পিওকে নেতা। এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ নাগরিকদের ভারতে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেই দাবি করেন তিনি।
ভয়াবহ অশান্তি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে
সূত্রের খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার এবং আটক হওয়া মানবাধিকার কর্মীদের মুক্তির দাবিতেই তারা বিক্ষোভ করছিলেন। মহিলা ও শিশুরাও ওই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিল। তবে ওই বিক্ষোভ চলাকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদেরকে হটানোর চেষ্টা করে, এমনকি নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। এদিকে গত সপ্তাহে ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সাধারণ মানুষ ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়’ এবং ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’ এরকম স্লোগান দিতে শুরু করে। এই অঞ্চলের উপর পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেই চলে আন্দোলন।
এই আবহে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতা সর্দার আমান খান ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর দাবি, বিক্ষোভের উপর ব্যাপক দমনপীড়নের পর ইসলামাবাদ ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। এমনকি জেএসি নেতা নয়াদিল্লিকে সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়ে সীমান্ত রেখা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ নাগরিকদের ভারতে চলে যাওয়ার একটা সুযোগ দেওয়া উচিত।
“Help Us, India”: PoJK Protesters Make Direct Appeal Amid Food Shortage
On the 26th day of protests, one of the main protest leaders, Sardar Aman Khan, appealed to the people across the Line of Control and to India for help, alleging that Pakistan has blocked food and medicine… pic.twitter.com/DRg3z2AlrL
— OsintTV 📺 (@OsintTV) July 5, 2026
আরও পড়ুন: হবে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি, বাংলার রাজ্যসভায় উপনির্বাচনের ঘোষণা, জানুন দিনক্ষণ
তাঁর কথায়, “আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। রেশনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমাদের আপনাদের সাহায্য দরকার। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার কারণে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা খাদ্য এবং ওষুধের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।” এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেন, “কর্তৃপক্ষ যদি জনগণের দাবির জবাবে গুলি চালায় তাহলে আমাদের কাছে অন্য পথও রয়েছে। কিন্তু তার পরিণতি যা হবে তার জন্য হয়তো ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে আবারও অনুশোচনা করতে হতে পারে।” কাশ্মীর এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে সীমান্ত মুছে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন, “আসুন আমরা এক হয়ে যাই। পাকিস্তানের শাসক আমাদেরকে দুর্বল ভাবলে ভুল করবে। পরে যদি মনে করে যে আমরা এখানে আটকে পড়েছি তাহলে সেটা সবথেকে ভুল ধারণা।”










