বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে সোশ্যাল পোস্ট সায়নীর, ‘ভার্চুয়াল উপস্থিতি’ নিয়ে উঠল বিতর্ক

Published:

Saayoni Ghosh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ১২ বছরের নাবালিকা ধর্ষণ ঘটনায় উত্তপ্ত বারুইপুর (Baruipur Minor Rape Case)। দোষীদের চরম শাস্তির দাবি জানিয়ে চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। যদিও প্রশাসনের তরফে সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার আশ্বস্ত করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় বারুইপুর কাণ্ডের নিন্দা করে অবশেষে মুখ খুললেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। নাবালিকার পরিবারের পাশে রয়েছেন বলে জানালেন তিনি। কিন্তু এমন এক স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে স্থানীয় সাংসদ হয়েও সশরীরে ঘটনাস্থলে না যাওয়া নিয়ে উঠল কটাক্ষ।

দীর্ঘ পোস্ট সায়নীর

ফেসবুকে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ জানিয়েছেন, “বারুইপুরে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনাটির প্রেক্ষিতে আমি স্তম্ভিত এবং মর্মাহত। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। এই মুহূর্তে সামাজিক, মানসিক ও প্রশাসনিক ভাবে নাবালিকার পরিবারের পাশে আছি।” এছাড়াও তিনি আরও জানান যে, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমার আলোচনা হয়েছে এবং উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাজ্য সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত করে অতি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চরম শাস্তি দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।”

দ্রুত তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ সায়নীর

বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যুর এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুও হয়েছে। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সায়নী ঘোষ বলেন, “মানুষের ক্ষোভ স্বাভাবিক হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। তাই শান্তি বজায় রেখে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করুন এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখুন। প্রশাসনের তরফে দোষীদের গ্রেফতারি এবং বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য একটি SIT গঠন করা হয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানাই।” কিন্তু এত বড় একটি ঘটনার পরও এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কেন সরাসরি সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: ‘চিকিৎসা নয় চলত কালো টাকার খেলা, না গেলে কাটা হত বিদ্যুৎ!’ সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগ

জনপ্রতিনিধি সায়নী ঘোষের এই ‘ভার্চুয়াল উপস্থিতি’ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তেমনই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় সর্বমোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। আপাতত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার রাতে ময়নাতদন্তের পর কাঁটাপুকুর মর্গ থেকে নাবালিকার দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনও থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে।