প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকার পরিবর্তন হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা, মন্ত্রী এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠেই চলেছে। বাদ যাননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)। বিধায়কদের সই জাল কান্ড থেকে শুরু করে ডিজে বাজানো মামলা, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে উঠছে অজস্র অভিযোগ। এমতাবস্থায় অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ (Sebaashray) শিবির নিয়ে উঠে এল ভয়ংকর অভিযোগ। এখানে নাকি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার নামে কালো টাকা সাদা করা হত! শুধু তাই নয় রোগ থাকুক বা না থাকুক, সাধারণদের ‘সেবাশ্রয়’-যেতে হত, না গেলে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলত না, কেটে দেওয়া হত জল, বিদ্যুতের লাইন।
অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ রবিবার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় মডেলের বিরুদ্ধে কালো টাকা সাদা করার ভয়ংকর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। এছাড়াও অভিষেকের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও তুলেছেন অভিযোগ। তাই এই ঘটনায় সাংসদ অভিষেক এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় একটি FIR দায়ের করেছেন পদ্ম শিবিরের নেতা অভিজিৎ দাস। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির তদন্তের আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা।
কী বলছেন বিজেপি নেতা?
অভিজিৎ দাসের হুঁশিয়ারি, “সেবাশ্রয় শিবিরের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এর নেপথ্যে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে সামনে রেখে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য ইডির তদন্ত প্রয়োজন।” এছাড়াও তাঁর দাবি এই শিবিরে দুর্নীতির সমস্ত প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজনে তিনি ধাপে ধাপে সেই সব তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে আসবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় ক্যাম্প নিয়ে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোগ না থাকলেও যেতে হত ক্যাম্পে
হরিণডাঙার বাসিন্দা শ্যামল হালদার জানিয়েছেন, “রোগ থাকুক না থাকুক ক্যাম্পে ডাক্তার দেখাতেই হবে। নাহলে জল বিদ্যুৎ এর লাইন কেটে দেওয়া হত। এরকমই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল জাহাঙ্গির-বাহিনী।” অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার বাসিন্দা পদ্মা সর্দার জানিয়েছেন, ‘২ টো শিবিরে দেখিয়েছি। আজও চশমা পাইনি’। শুধু তাই নয়, ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে মোবাইল ফোন দেখে নাকি রোগীর চিকিৎসা করা হয়। অভিষেকের সেবাশ্রয় ক্যাম্প নিয়ে যে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই অভিযোগ করেছে তা নয়, জেলার নার্সিংহোম ও নার্স অ্যাসোসিয়েশনও একের পর এক ভয়ংকর অভিযোগ তুলছে।
আরও পড়ুন: বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে গ্রেফতার আরও ১, তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দাবি, লাইসেন্স আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত জাহাঙ্গীর খানের তরফে। আর সেই ভয়ে, হাসপাতাল খালি করে ক্যাম্পে দিতে হয়েছিল বেড থেকে চিকিৎসা-সরঞ্জাম। উল্লেখ্য, শুক্রবার FIR দায়ের হয়েছে ডায়মন্ডহারবার থানায়। এছাড়াও রবিবার বিষ্ণুপুর থানায় রুজু হয়েছে আরও একটি FIR। অর্থাৎ জোড়া মামলার দায়ে রীতিমত কড়া নজরে সেবাশ্রয় প্রকল্প।










