ভারত সহ ৬০ দেশের উপর ফের শুল্ক আরোপ আমেরিকার

Published:

US Aditional Tariffs

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের ওপর আবার অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চাপালো আমেরিকা (US Tariff)। আজ (৩ জুন)  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (USTR) ঘোষণা করেছে যে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সেটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না করার জন্য ভারত সহ মোট ৬০টি দেশ থেকে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ১০% থেকে ১২.৫% পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। 

কী রয়েছে ইউএসটিআর-এর প্রস্তাবে?

রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ (খ)(১) ধারার অধীনে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ট্রেডিং পার্টনারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কয়েক মাস পরই এই নতুন করে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে যে, ৬০টি অর্থনীতির কার্যধারা, নীতি আমেরিকার অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।  মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন যে, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে ওঠা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশ তাদের বাজারে জোরপূর্বক শ্রম দ্বারা উৎপাদিত পণ্যগুলিকে প্রবেশ করতে দিয়েছে। এই সব পণ্য নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে দেশগুলি। 

ইউএসটিআর-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে মেক্সিকো, কানাডা, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, ব্রাজিল, দক্ষিন কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড সহ আরো কিছু দেশের ওপর আরোপ করা হয়েছে অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক। 

আরও পড়ুনঃ আরও এক দেশে চালু হল ভারতের UPI

তবে এই দেশগুলির কাছে কিছুটা স্বস্তির যে এখনই এই শুল্ক চালু করা হচ্ছে না। অপেক্ষা করা হচ্ছে পাবলিক কমেন্ট ও রিভিউয়ের জন্য। কিন্তু যদি এই শুল্ক নীতি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃক নির্ধারিত শুল্কসীমাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। 

জানিয়ে রাখি, বর্তমানে নয়াদিল্লিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে তিন দিন ব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা চলছে। একদিকে, ভারত ও আমেরিকা একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অন্যদিকে এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত চলমান বাণিজ্য আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করবে বলেই মত বাণিজ্য মহলের একাংশের।