অনন্যা সরকার, কলকাতা: সামনেই আসছে পুজো। মার্কেটগুলোতে এখন থিকথিক করছে ভিড়। অনলাইনেও বর্তমানে নতুন পোশাক (New Clothes) কেনার ধুম পড়েছে। নতুন জামা কিনতে বা পড়তে কে না ভালবাসে! কিন্তু নতুন পোশাক যদি আনন্দের বদলে আপনার সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? হ্যাঁ, এই সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পোশাক পরার আগে সেগুলো ধুয়ে নেওয়া জরুরি। সেটা নতুন সালোয়ার হোক বা নতুন শার্ট, পরার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিলে অনেক সমস্যা নির্মূল করা যায়। আর এমনটা না করলে পোহাতে হতে পারে অনেক সমস্যা। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন নতুন কেনা পোশাক ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
কোন কোন কারণে নতুন কেনা জামা কাপড় ধুয়ে নেওয়া দরকার
রাসায়নিকের প্রভাব: বাণিজ্যিকভাবে পোশাক তৈরি করতে অনেক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যা দোকানে পৌঁছানোর পর আপনাআপনি উবে যায় না। ছত্রাক-প্রতিরোধী উপাদান, ফরমালডিহাইড, রঙ পাকা রাখার জন্য নানা রাসায়নিক পদার্থ প্রায়শই পোশাকটি তৈরির পরেও কাপড়ের তন্তুতে থেকে যায়। তাই না ধুয়ে পোশাক পরলে র্যাশ ও চুলকানির সমস্যা হতে পারে এবং কখনও কখনও এর থেকে অন্যান্য সংক্রমণও হতে পারে। বিশেষ করে কারও ত্বক সংবেদনশীল হয়, তবে তাদের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
কাপড়ের রং ত্বকে লেগে যাওয়া: কখনও কখনও নতুন জামাকাপড়ের রং গায়ে লেগে যায়, বিশেষ করে ঘাম হলে এই সমস্যাটি দেখা যায়। তাই, নতুন কাপড় পরার আগে সবসময় ধুয়ে নেওয়া উচিত। গাঢ় নীল ও কালোর মতো গাঢ় রং কাপড়ে প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং অন্য কাপড়েও লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি না ধোয়া হয়, তবে এই রংগুলো স্থায়ীভাবে দাগ ধরিয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: বর্ষায় বিচ্ছিন্ন গ্রাম, কোলে ৯ মাসের সন্তানকে নিয়ে রোজ উত্তাল নদী পার করে স্কুল আসেন শিক্ষিকা
কারখানার গন্ধ: নতুন কাপড় থেকে প্রায়শই কারখানার গন্ধ বের হয়, যা বেশ অপ্রীতিকর। এই গন্ধটি পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও গুদামের উপকরণের সংস্পর্শে আসার ফলে তৈরি হয়। গন্ধটি অনেকের মাথাব্যথা, এমনকি শ্বাসকষ্টেরও কারণ হতে পারে। নতুন কাপড় ধুলে এই গন্ধ দূর হয়ে যায় এবং কাপড়ে সতেজ গন্ধ থাকে, ফলে সেগুলো পড়লে অস্বস্তি হয় না।
অনেক হাত বদল হওয়া: অনেক হাত বদল করে নতুন কাপড় ক্রেতার কাছে পৌঁছায়। অনলাইনে কেনা জামার ক্ষেত্রে এমনটা খুবই হয়। কেনার আগে অনেকে সেগুলো পরে ট্রায়াল দেন। ফলে, কাপড়ে ত্বকের কোষ, তেল এবং ঘামের সাথে আসা প্রচুর পরিমাণে জীবাণু থাকতে পারে। তাই, নতুন কাপড় ধুলে এই জীবাণুর সংস্পর্শ থেকে বাঁচা যায়।
প্রাকৃতিক সুতোয় থাকা কীটনাশক: প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকে কীটনাশক থাকার সম্ভাবনা থাকে। তুলোকে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় এবং এই কাপড়গুলি ত্বকে র্যাশের সৃষ্টি করতে পারে। তাই, পরার আগে নতুন জামা ধুয়ে নেওয়াই ভালো।










