আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বর্তমানে চুল পড়া (Hairfall), চুল ভেঙে যাওয়া কিংবা চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমবেশি প্রত্যেকের জীবনেই নিত্য সঙ্গী। অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, খাবারের ধরন, দূষণ এবং বিভিন্ন ধরনের হেয়ার ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি বিষয়গুলি চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়। সমস্যা শুরু হলে অনেকেই দামি তেল, শ্যাম্পু কিংবা স্যালন ট্রিটমেন্টের পিছনে প্রচুর টাকা খরচ করেন। তবে হেয়ার স্টাইলিস্ট জাভেদ হাবিবের (Jawed Habib) পরামর্শ অনুযায়ী, চুলের যত্ন নিতে এবং স্বাস্থ্যকর চুল পেতে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াটাও অত্যন্ত জরুরি।
পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার
চুলের স্বাস্থ্য শুধু বাইরে থেকে ব্যবহৃত প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর করে না। শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পেলে তার প্রভাব চুলেও পড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে নজর দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে খাবারের তালিকায় প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন-ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে। ডায়েটে শাকসবজি, ফল, বাদাম, দুধ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্ক্যাল্প বা সিঁথি পরিষ্কার রাখুন
ধুলো, ঘাম ও দূষণের কারণে স্ক্যাল্পে ময়লা জমতে পারে। তাই নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা দরকার। জাভেদ হাবিব প্রি-শ্যাম্পু অয়েলিংয়ের কথাও বলেন, অর্থাৎ শ্যাম্পু করার আগে চুলে তেল লাগানো। শ্যাম্পুর আগে তেল ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা ও চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যা কিছুটা কমাতে পারে। তবে সপ্তাহে কতবার শ্যাম্পু করবেন, তা সম্পূর্ণভাবে চুলের ধরন ও স্ক্যাল্পের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
নিয়মিত ট্রিমিং করান
চুল বড় করার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই দীর্ঘদিন চুল কাটান না। কিন্তু চুলের ডগায় যদি ফাটা বা স্প্লিট এন্ডস তৈরি হয়, তাহলে নিয়মিত ট্রিমিং করানো উচিত। সাধারণভাবে ২-৩ মাস অন্তর চুলের ডগা সামান্য ট্রিম করা যেতে পারে। এর ফলে ফাটা ডগা বাদ দেওয়া যায় এবং চুল দেখতে তুলনামূলকভাবে গোছানো ও স্বাস্থ্যকর লাগে। তবে ট্রিমিং কিন্তু নতুন চুল গজানোর চিকিৎসা নয়, এটি মূলত চুলের ডগার যত্নের একটি পদ্ধতি।
অতিরিক্ত কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট এড়িয়ে চলুন
বারবার চুলে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, হিট স্টাইলিং, স্ট্রেটনিং, রিবন্ডিং, ব্লিচ বা শক্তিশালী কেমিক্যালযুক্ত কালার ব্যবহার করলে চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে চুল শুষ্ক, রুক্ষ বা ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঘন ঘন এই ধরনের ট্রিটমেন্ট না করাই ভালো। চুলের স্বাভাবিক গঠন ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে তুলনামূলকভাবে সহজ এবং নিয়মিত হেয়ার কেয়ার রুটিন মেনে চলাই ভালো।
আরও পড়ুন: বিস্কুটে ভরেনি মন, মদের দোকানে ঢুকে ‘ভদকা’ খেয়ে ঘুম বানরের, ভাইরাল ভিডিও
চুল পড়া বেশি হলে কী করবেন?
চুল পড়ার কারণ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়তে থাকলে শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায় বা দামি হেয়ার প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর করবেন না। তৎক্ষণাৎ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে হঠাৎ করে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে বা স্ক্যাল্পে অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।










