প্রভিডেন্ট ফান্ডে মাসে ৫০০০ টাকা বিনিয়োগে ৩০ বছর পাবেন ৮০ লাখ! দেখুন হিসেব

Published:

Provident Fund

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আচ্ছা কখনও ভেবে দেখেছেন, আপনার পিএফ (Provident Fund) অ্যাকাউন্টে টাকা জমিয়ে ৮০ লক্ষ টাকা করলে কেমন হয়? অঙ্ক শুনে চমকে গেলেন তো? ভাবছেন সেটা কী করে সম্ভব? কিন্তু সব সম্ভব। যারা চাকরি করেন তাঁরা জানেন EPF-এর গুরুত্ব তাঁদের জীবনে ঠিক কতটা। এই ইপিএফ-এ নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারী দুজনকে কিন্তু সমানভাবে অবদান রাখতে হয়, তবেই কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ভালো অঙ্কের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে এই অ্যাকাউন্টে বুঝেশুনে টাকা জমা করলে কিছু বছর পর আপনি ৮০ লক্ষ টাকা অবধি ফান্ড পেতে পারেন। চলুন জেনে নেবেন কীভাবে।

EPF থেকে মিলবে ৮০ লক্ষ টাকা!

EPF-এ বার্ষিক ৮.২৫% হারে সুদ পাওয়া যায়, যা দেশব্যাপী ৭ কোটিরও বেশি গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য। তবে, কর্মচারীরা যদি তাদের অবদান বাড়ান, তাহলে প্রায় তিন দশক পরে তারা ৮০ লক্ষ টাকার একটি মোটা ফান্ড তৈরি করতে পারেন। চলুন তার আগে হিসেবটা বুঝে নিতে হবে ভালো করে। বেশিরভাগ কর্মচারী প্রতি মাসে তাদের মূল বেতন এবং মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) ১২% সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ইপিএফ-এ জমা দেন। নিয়োগকর্তাও সমপরিমাণ ১২% অর্থ প্রদান করেন। নিয়োগকর্তার জমা করা অর্থের মধ্যে ৩.৬৭% ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হয়, এবং বাকি ৮.৩৩% কর্মচারীর পেনশন অ্যাকাউন্ট বা ইপিএস অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

আরও পড়ুনঃ LPG গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর, কয়েক মিনিটেই মিলবে নতুন গ্যাস সিলিন্ডার

সেক্ষেত্রে আপনি যদি ইতিমধ্যেই প্রতি মাসে আপনার ইপিএফ-এ প্রায় ১,২০০ টাকা জমা করে থাকেন, তাহলে একটি ভলান্টারি প্রভিডেন্ট ফান্ড (ভিপিএফ)-এর মাধ্যমে এই পরিমাণ বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করতে পারেন। এক বিশেষজ্ঞের মতে, ভিপিএফ কোনো আলাদা অ্যাকাউন্ট নয়। এটি আপনার ইপিএফ-এরই একটি বর্ধিত অংশ, যেখানে আপনি বাধ্যতামূলক ১২%-এর অতিরিক্ত স্বেচ্ছায় টাকা জমা করতে পারেন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য একই ৮.২৫% সুদের হার অর্জন করতে পারেন। মেয়াদপূর্তিতে এটি করমুক্ত থাকবে। এবং সেইসঙ্গে পুরনো কর ব্যবস্থার অধীনে অতিরিক্ত ৮০সি ছাড়ের সুবিধাও ভোগ করবেন আপনি।

হিসেব বুঝুন

ধরা যাক, দুজন ব্যক্তি তাদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে ৮.২৫% সুদের হারে প্রত্যেক মাস্যা ৫,০০০ টাকা করে জমা করেন। যদি প্রথম ব্যক্তি ৩০ বছর ধরে টাকাটা না তোলেন, তাহলে তার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার একটি ফান্ড তৈরি হবে। অন্যদিকে, যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রতি ১০ বছর অন্তর পুরো তহবিল তুলে নেন এবং আবার নতুন করে প্রক্রিয়াটি শুরু করেন, তাহলে তার মাত্র ২৮ লক্ষ টাকার একটি ফান্ড থাকবে। সবটা কিন্তু চক্রবৃদ্ধি হারে গণনা করা হয়। যখন আপনি টাকা তুলে নেন এবং আবার নতুন করে শুরু করেন, তখন আপনি প্রতিবার সেই ভিত্তিটি বাদ দিয়ে একটি ছোট অঙ্কের উপর চক্রবৃদ্ধি সুদ গণনা শুরু করেন। ফলে টাকা কমবেশি হবেই, অর্থাৎ আপনি কত টাকা অবধি ফান্ড পাওয়ার সুযোগ পাবেন সেটা কিন্তু নির্ভর করবে আপনারই ওপর।