৯৫ এর গণ্ডি পার, ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় টাকা

Published:

Indian Rupee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গেল ভারতীয় রুপি (Indian Rupee)। ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন টাকার। ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার যে ভারতীয় অর্থনীতির ইতিহাসে সবথেকে উদ্বেগের দিন হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম আরও ৩২ পয়সা কমে ৯৫.১২৬ টাকায় পৌঁছে দিয়েছে, যা এযাবৎকালের সর্বনিম্ন স্তর। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের চড়া মূল্য আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই ভারতের মুদ্রা একেবারে খাঁদের কিনারায়।

কেন এই রেকর্ড পতন?

বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকার এই পতনের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করছে। যার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। দ্বিতীয়ত, ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল আমদানি করে থাকে। আর তেলের দাম বাড়লে আমদানিকারকদের ডলার দিয়েই পেমেন্ট করতে হয়। যার ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে এবং টাকার দামের উপর চাপ পড়ছে। তৃতীয়ত, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হারে সেরকম কোনও কাটছাঁট না করার কারণে বিশ্ব বাজারে ডলার আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতেই থেকেই ভারতীয় টাকার গ্রাফ নিম্নমুখী। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার মান প্রায় ৫.৮% হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার পারফরম্যান্স বর্তমানে সবথেকে খারাপ অবস্থায় বা রেকর্ড তলানিতে।

আরও পড়ুন: এই গরমে এসি নাকি কুলার, কোনটি কেনা আপনার জন্য সেরা হবে? জানুন

তবে টাকার এই রেকর্ড পতনের মধ্যেও আশার আলো দিচ্ছেন ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডি অনন্ত নাগেশ্বরন। ব্লুমবার্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানাচ্ছেন যে, বিশ্ব বাজারের অস্থিরতার কারণে টাকার উপর সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তার মতে, ভারতীয় টাকা বর্তমানে তার প্রকৃত মূল্যের থেকে অনেকটাই নিচে অবস্থান করছে। আর দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ভারতের বাজারে বিনিয়োগ করার সুবর্ণ সুযোগ। এমনকি ভারতের অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্তিশালী বলেই দাবি তাঁর। তাই পরিস্থিতির উন্নতি হলে টাকা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।