এই গরমে এসি নাকি কুলার, কোনটি কেনা আপনার জন্য সেরা হবে? জানুন

Published:

AC vs Cooler

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গরমের দাপট দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পারদ এখন ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির ঘরে। আর এই পরিস্থিতিতে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এসিতে বিনিয়োগ করবেন নাকি কম খরচে এয়ার কুলার কিনবেন (AC vs Cooler) তা নিয়ে সংশয়ে পড়ছে আমজনতা। শুধুমাত্র দাম নয়, বরং আপনার এলাকার আবহাওয়া এবং বিদ্যুতের বিলের উপর নির্ভর নির্ভর করবে আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত। সেই তুলনাই করব আমরা এই প্রতিবেদনে।

ঠান্ডা করার ক্ষমতা

তীব্র তাপের সময় যখন বাইরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়, তখন এসি সবথেকে বেশি কার্যকর। এটি খুব দ্রুত ঘরের তাপমাত্রাকে কমিয়ে দেয় এবং ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে এয়ার কুলার ঘরকে মনোরম করলেও এসির মতো ঠান্ডা করতে পারে না। বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে কুলারের কার্যকারিতা অতটাও হয় না।

আর্দ্রতা ও শুষ্ক আবহাওয়া

ভারতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে একেক জায়গায় আবহাওয়া একেক রকম হয়ে থাকে। উপকূলীয় এলাকায় যেমন কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই সেখানে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, তাই এই জায়গাগুলোতে এসি সেরা। কারণ, এসি বাতাস থেকে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প শুষে নিয়ে আরামদায়ক আবহাওয়া তৈরি করে। এসব জায়গায় কুলার ব্যবহার করলে ঘর গুমোট বা ভ্যাঁপসা হয়ে যেতে পারে। তবে যেসব শুষ্ক এলাকা যেমন দিল্লি, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ইত্যাদি জায়গায় এয়ার কুলার দারুণ কাজ করে। এটি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় বাতাসকে ঠান্ডা রাখে আর বাতাসে জলীয় বাষ্প যোগ করে। যেটি শরীরের জন্য উপযোগী।

বিদ্যুতের বিল

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিক থেকে এয়ার কুলার এগিয়ে থাকবে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, একটি এসি চালাতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, কুলার তার থেকে অন্তত ১০ গুণ কম খরচে চলে। মাসে মোটা অংকের ইলেকট্রিক বিল যাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাদের জন্য কুলার সাশ্রয়ী বিকল্প। কিন্তু বর্তমানে ইনভার্টার এসি আসার কারণে বিদ্যুতের খরচ আগের থেকে অনেকটাই কমেছে।

রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইনস্টল

এসি বসানোর জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন হয় এবং ঘর সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়। তবে হ্যাঁ, কুলার পোর্টেবল বা বহনযোগ্য হওয়ার কারণে যেখানে খুশি সেখানে রাখা যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কুলার চালানোর সময় দরজা জানলা খোলা রাখা বা সঠিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হয়।

আরও পড়ুন: হাওড়া ডিভিশনে ফের মেগা ব্লক, মে মাসে বাতিল থাকবে একগুচ্ছ ট্রেন

স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব

দীর্ঘক্ষণ যদি এসি চালান, তাহলে ত্বক ও গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, এসি বাতাসকে অত্যন্ত শুষ্ক করে দেয়। অন্যদিকে কুলার প্রাকৃতিকভাবে বাতাসকে ঠান্ডা করে আর বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকে। তাই যাঁদের শ্বাসকষ্ট বা ধুলোবালিতে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য নিয়মিত পরিষ্কার না করা কুলার ক্ষতিকারক হতে পারে।