সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বর্ষা আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে রেখেছে বাংলাকে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত চলছে উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গে। কিন্তু জতই বৃষ্টি হোক, ভ্রমণপিপাসু বাঙালির পক্ষে বাড়িতে লম্বা সময় অবধি বসে থাকা দুঃসাধ্য ব্যাপার। ফলে এই বর্ষার সময়ে কোথায় দুদিনের ছুটিতে একটু ঘুরে আসা যায় তার খোঁজ করছেন অনেকে। আপনিও কি সেই তালিকা? ঘুরতে যাওয়ার জন্য কোনও অফবিট জায়গা খুঁজছেন? তাহলে ঘুরে আসতে পারে সুন্দর এবং ছিমছাম পাহাড়ি গ্রাম ‘পাপরখেতি’ (Paparkheti) থেকে।
বর্ষায় ঘুরে আসুন অফবিট গ্রাম ‘পাপরখেতি’ থেকে
এমনিতে বর্ষার সময়ে ডুয়ার্সের অন্যতম ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপের দেখা মেলে। আর এই পাপরখেতি হল ডুয়ার্সেরই একদম নতুন এবং অফবিট জায়গা। এখানে এখনও অবধি তেমন পর্যটকদের পা পড়েনি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০০০ ফুট উঁচুতে পাপরখেতি হলো উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার গরুবাথানের কাছে অবস্থিত একটি অসাধারণ, শান্ত এবং অফবিট পাহাড়ি গ্রাম। এখানে এলে আপনার মন ও শরীর দুইই জুড়িয়ে যাবে, ভাবতে বাধ্য হবেন, আগে কেন এই জায়গায় আসেননি।
আরও পড়ুনঃ ২ ঘণ্টার রাস্তা এখন মাত্র ৩৫ মিনিট, বদলে গেল নাগাল্যান্ড-অসম রুট
বর্ষার সময়ে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলি আরও সবুজ এবং আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। থাকে এক অন্যরকম মাদকতা যা আমাদের আদিম সত্যতা কে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে এনে দায়। তেমনই একটি জায়গা হল এই পাপরখেতি। গোরুবাথান থেকে লাভা যাওয়ার রাস্তায় এই জায়গাটি পড়ে। মেঘ বৃষ্টিকে সঙ্গে রেখে এই সময়ে আপনি অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাপরখেতি থেকে। শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গরুবাথানের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে চলা চেল নদী আপনাকে এক আলাদাই অনুভূতি দেবে। সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে থাকবে চোখের সামনে সুউচ্চ পাহাড়, জঙ্গল। এদিকে পাপরখেতি হল মূলত পিকনিক স্পট। এখানে ঢুকতে লাগে এন্ট্রি ফি। এখানে এলেই দেখতে পাবেন চোখের সামনে বসে চলেছে সুন্দর নদী। সেইসঙ্গে রয়েছে পাথর। এই নদীর জলে বসে থেকে আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারেন।
কীভাবে যাবেন?
শিলিগুড়ি থেকে আপনি দুইভাবে পাপরখেতি যেতে পারবেন। একটি হল সেবক হয়ে আরেকটি হল গাজলডোবা দিয়ে। সেবক হয়ে গেলে দূরত্ব পড়বে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার মতো। আপনি শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে সহজেই এখানে চলে আসতে পারেন।










