৬ মাসেই আবর্জনার পাহাড় থেকে বানালেন ৪০০ কোটির সম্পদ, বিশেষ উদ্যোগ IAS আশিসের

Published:

IAS officer Ashish Singh Clear Trash Mountain

অনন্যা সরকার, মধ্যপ্রদেশ: দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোরের ১০০ একর জায়গা জুড়ে প্রায় ১৩ লক্ষ মেট্রিক টন পুরোনো বর্জ্যের এক বিশাল স্তূপ পাহাড়ের আকার ধারণ করেছিল। রাতে সেখানেই প্লাস্টিক পোড়ানো হতো, যার ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ত আশপাশের বাড়িঘরগুলিতে। দুর্গন্ধে বাড়িতে টেকা দায় হয়ে যাচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। বাসিন্দারা সারাক্ষণ জানালা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হতেন। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হওয়ার পাশাপাশি ক্রমাগত ভূ-প্রাকৃতিক ও আর্থিক ক্ষতিরও কারণ হয়ে উঠেছিল।

আইএএস অফিসারের উদ্যোগে সরলো পাহাড়প্রমাণ ময়লার স্তুপ

আইএএস অফিসার (IAS Officer) আশিস সিং যখন ইন্দোরের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি এই বিরাট সমস্যাটির মুখোমুখি হন। শহর কর্তৃপক্ষ এর আগে বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য বাইরের অনেকগুলি সংস্থাকে ৬০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করেছিল, কিন্তু বর্জ্যের সেই পাহাড় যেমন ছিল তেমনই রয়ে যায়। তাই নতুন কোনো ডিল বা ব্যর্থ প্রক্রিয়াগুলো পুনরায় অনুসরণ করার পরিবর্তে, আশিস সিং পুরো ব্যবস্থাটিকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন।

ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নিজেই উদ্যোগী হয়ে আধুনিক ‘বায়োমাইনিং’ (biomining) পদ্ধতিটি গ্রহণ করে। প্রথমে, ল্যান্ডফিলের ওপরের স্তরগুলোতে ‘বায়ো-কালচার’ প্রয়োগ করে সেগুলোর বিষাক্ততা ও দুর্গন্ধ কমানো হয়। এরপর, দীর্ঘদিনের পুরোনো বর্জ্যের প্রতিটি স্তরকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলাদা করা হয়। ধাতু, প্লাস্টিক, কাপড় ও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য অন্যান্য উপকরণগুলো এরমধ্যে থেকে বেছে আলাদা করে সংগ্রহ করা হয়। ফলে, বর্জ্যের মাত্র ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় অবশিষ্টাংশ একটি সুরক্ষিত ও পরিকল্পিত ল্যান্ডফিলে ফেলার প্রয়োজন পড়ে।

আরও পড়ুন: পায়ের তলায় সোনার সড়ক! দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ২৪ ক্যারেট স্বর্ণখচিত হাঁটার রাস্তা

কাজের গতি যাতে অব্যাহত থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ও পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর ফলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে, ১০ কোটি টাকারও কম খরচে ১৩ লক্ষ টন বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়। এই সাফল্যের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা ১০০ একর জমির বর্তমান মূল্য এখন প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। একসময়ের বিষাক্ত ময়লার স্তুপ আজ ইন্দোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর সম্পদে পরিণত হয়েছে। যা কার্যকর ও কৌশলগত সুশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ছাত্রী গড়লেন নজির, ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের প্রাক্তনী সুযোগ পেলেন ISRO-এ

প্রসঙ্গত, এই রূপান্তর কোনো বিশাল বাজেটের ফল নয়, বরং এটি সম্ভব হয়েছে দূরদর্শী পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন ও একটি ব্যর্থ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার সাহসের কারণে। আইএএস আশিস সিংয়ের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, প্রকৃত নেতৃত্ব মানে কেবল সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থ ব্যয় করা নয়, বরং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই আদর্শ প্রশাসকের কাজ। অন্যরা যেটিকে শুধুই আবর্জনার স্তুপ ভাবছিল, সেখানেই বিপুল সম্ভাবনা দেখেছিলেন আশিস সিং।

google button