সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কর্পোরেট জগতে মানুষের পরিশ্রম নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। মানসিক ক্লান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে সেই খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসার সাহস আর কজন দেখাতে পারে? ঠিক তেমনই এক নজিরবিহীন এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দিলেন ভারতীয় তরুণী। আইটি ক্ষেত্রের নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছেন অটো চালানোর পেশা। পেশাগত জীবনের চরম গুমোট আর মানসিক অবসাদ ছেড়ে আজ তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবেই অটো চালাচ্ছেন। সবথেকে বড় বিষয়, এই পেশা থেকেই তিনি প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন (Success Story)।
কেন ছাড়লেন কর্পোরেটের দুনিয়া?
বেশ কিছু সূত্রের খবর, ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরেই আইটি সেক্টরে একটি ভালো পদে চাকরি করছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে কাজের অতিরিক্ত চাপ আর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত আর পেশাগত জীবনে চাপ পড়ছিল। যে কারণে মানসিক চাপ তাঁর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। অবশেষে একদিন সেই গণ্ডি থেকে চিরতরে বেরিয়ে আষাঢ় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের জীবনের রাস নিজের হাতেই নিয়ে একটি অটো রিকশা কেনার সিদ্ধান্ত নেন তরুণী। তাঁর মতে, এই পেশায় হয়তো সেরকম মর্যাদা নেই। কিন্তু এখানে বসের নজরদারি বা সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। যখন ইচ্ছা তখন কাজ করা যায়। আর নিজের সুবিধা মতো সময় বের করে নিয়ে স্বাধীনভাবে এই পেশা সামলানো যায়।
তরুণীর এই লড়াই এবং ঘুরে দাঁড়ানোর ভিডিওটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হওয়া মাত্রই ভাইরাল হয়। বিশেষ করে কর্পোরেট এবং আইটি সেক্টরে কর্মরত নেট নাগরিকরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন, এবং নিজেদের জমে থাকা ক্ষোভ একেবারে উগড়ে দেন কমেন্ট বক্সে। আইটি ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কাজ করা এক ব্যক্তি বলেছেন যে, “মিটিংগুলি স্রেফ একটা সাধারণ ইমেইলের মাধ্যমে মিটে যেতে পারত। তার জন্য আমাদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিটিংয়ে বসিয়ে রাখা হয়। কুইক কল নাম দিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা কখন যে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেয় কেউ জানে না। গভীর রাতে প্রোডাকশান ইস্যু সামলানো আর মানসিক চাপের পরীক্ষা দিতে আমরা একেবারে ক্লান্ত।”
View this post on Instagram
আরও পড়ুন: অনুরাধা নক্ষত্রে সোনায় সোহাগা হবে ৪ রাশি! আজকের রাশিফল, ৩১ মে
অন্য আরও একজন সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, “নিশ্চয়ই উনি চাকরি ছাড়ার আগে নিজের জন্য অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ২ কোটি টাকার একটা আর্থিক ব্যাকআপ বা সেভিংস তৈরি করে রেখেছিলেন। নিরাপত্তা ছাড়া এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্যিই কঠিন।” এমনকি আরও একজন মন্তব্য করছেন যে, “জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সবাই শুধুমাত্র একটু শান্তি খোঁজে। তাঁর এই অতি সাধারণ কিন্তু খুশীভরা জীবনকে আমরা কুর্নিশ জানাই।”










