দিনে ৪০০ ইঁট বয়ে মজুরি ৩০০ টাকা, NEET পরীক্ষায় ৬৭৭ পেলেন সেই দিনমজুর সরফরাজ

Published:

Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্যের জন্য কি সব সময় দামি কোচিং সেন্টার বা বিলাসবহুল পড়ার ঘর প্রয়োজন? না, কারণ পশ্চিমবঙ্গের সরফরাজ প্রমাণ করে দিয়েছেন যে মাথার উপর ছাদ না থাকলেও যদি জেদ আর ইচ্ছাশক্তি থাকে, তাহলে আকাশ ছোঁয়াও সম্ভব। দিনে ৩০০ টাকা মজুরিতে ইট বয়ে আজ তিনি কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের ছাত্র (Success Story)।

সরফরাজের সাফল্যের গল্প

২১ বছর বয়সে যখন সরফরাজ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তখন তাঁর পরিবারের অবস্থা ছিল একদম শোচনীয়। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থার সংসারে পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল অসম্ভব। তাই পরিবারের মুখে অন্ন যোগাতে নিজেই শ্রমিকের কাজ শুরু করে দেন তিনি। প্রতিদিন ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠে সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত তপ্ত রোদে ইট বইত এই যুবক। এটাই ছিল তাঁর দৈনন্দিন রুটিন। হাত থেকে রক্ত পড়ত, এমনকি পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হত। কিন্তু কাজ শেষে বাড়ি ফিরে বিশ্রাম না নিয়ে বই খুলে বসতেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় পাওয়া তাঁদের বাড়িটির তখনও ছাদ তৈরি হয়নি। শীতের রাতে হাড় কাপানো ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকে আসত। তবে ছেলের যাতে ঠান্ডা না লাগে এবং সে যাতে শান্তিতে পড়তে পারে, তাই মা সারা রাত জেগে থাকতেন। এক সাক্ষাৎকারে তাঁর মা বলেছেন, আমাদের ঘরের ছাদ ছিল না। সরফরাজ যাতে ঠান্ডায় কষ্ট না পায়, তাই আমি সারারাত ওর পাশে বসে থাকতাম। নিজের শরীর দিয়েই বাতাস আড়াল করে রাখতাম।

সরফরাজের প্রথম লক্ষ্য ছিল এনডিএ। ২০২২ সালে প্রথম ধাপে সফলতা অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে ইন্টারভিউ একমাস আগে দুর্ঘটনায় পড়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এরপর তিনি নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। একবার ডেন্টাল কলেজে সুযোগ পেলেও হস্টেল ফ্রি বা থাকার খরচ জোগাড় করতে না পারার কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে আবারও ইট বওয়ার কাজে ফিরতে হয় তাঁকে। এমনকি গ্রামবাসীরা হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু সরফরাজ কোনও উত্তর দেননি।

আরও পড়ুন: মাত্র ৮ কিমি জমি হস্তান্তর! সীমান্তে বেড়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা হাইকোর্টের

এদিকে লকডাউনের সময় সরকারি অনুদানের সামান্য টাকা দিয়ে একটি সস্তার স্মার্টফোন কিনেছিলেন সরফরাজ। কোনও কোচিং ছাড়াই ফোনে ইউটিউব দেখে চলত তাঁর গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা। অবশেষে ২০২৪ সালের যখন নিট পরীক্ষার ফল বের হয়, তখন দেখা যায় ৭২০ এর মধ্যে ৬৭৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই যুবক। আর আজ তিনি কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে আগামী ডাক্তার হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁর সফলতার জন্য সত্যিই কুর্নিশ।