বাবার অকাল মৃত্যু, মায়ের ক্যান্সার, মনোবল না হারিয়ে UPSC ক্র্যাক করে IAS অনিমেষ

Published:

UPSC Success Story IAS Animesh Pradhan

অনন্যা সরকার, কলকাতা: কখনও কখনও জীবন মানুষকে এমন পর্যায়ে এসে দাঁড় করিয়ে দেয় যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব মনে নয়। চোখে স্বপ্ন থাকলেও, তা পরিস্থিতি তা বারবার ভাঙার চেষ্টা করে। ওড়িশার অনিমেষ প্রধানের কাহিনীও (UPSC Success Story of IAS Animesh Pradhan) এই যন্ত্রণা, সংঘর্ষ ও আত্মবিশ্বাসের নজির হয়েছে উঠেছে। অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন অনিমেষ, মা চলে যান মারণ ব্যাধি ক্যান্সারে। তবু হাল ছাড়েননি তিনি। শোক সঙ্গী করেই ভারতের অন্যতম কঠিন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় (UPSC) পাশ করে হয়েছেন আইএএস (IAS) অফিসার। অনিমেষ প্রধানের সাফল্যের কাহিনী এটাই প্রমাণ করে যে, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক আত্মবিশ্বাস ও সাহস মানুষকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের শিখরে। 

অল্পবয়সেই জীবনসংগ্রাম শুরু

ওড়িশার তালচেরের বাসিন্দা অনিমেষ প্রধান এনআইটিআই রাউরকেল্লা (NIT Rourkela) থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বি.টেক (BTech) পাশ করেন। ছোট থেকেই তিনি তার লক্ষ্যে অটুট ছিলেন, কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব মাথায় চাপায় অল্পবয়সেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ২০১৫ সালে একাদশ শ্রেণির ছাত্র অনিমেষ হঠাৎই হারান বাবাকে। মাথার ওপর থেকে সরে যায় নিশ্চিন্ত বট গাছের ছায়া। পড়াশোনা সাথে পরিবার ও আর্থিক দায়িত্বও তার কাঁধে চাপে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও ভেঙে পড়েননি অনিমেষ। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থেকে তার লেখাপড়া চালিয়ে যান। 

বাবার মৃত্যুর পর অনিমেষের মা সংসারের হাল ধরেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে তিনি আক্রান্ত হন ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য অসুখে এবং ক্যানসারই কেড়ে নেয় তার প্রাণ। আর এই সব কিছু ঘটছিল ঠিক তার ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়। কিন্তু চাপের মুখে ভেঙে পড়েননি অনিমেষ প্রধান। তার মা যখন চিকিৎসাধীন ছিলেন তখনও নিয়মিত পড়াশোনা করে সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং অবশেষে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল পান। 

আরও পড়ুনঃ নিরিবিলি, অল্প চেনা! বর্ষায় ঘুরে আসুন দক্ষিণবঙ্গের ‘ডুয়ার্স’ থেকে

২০২২ সালে অনিমেষ প্রধান আইএএস অফিসার হওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। কোনও কোচিং ছাড়াই প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘন্টা পড়াশোনা করে ২০২৩ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় প্রথম প্রচেষ্টাতেই দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তার ঐচ্ছিক বিষয় ছিল সমাজবিজ্ঞান। বাবা মায়ের অকাল মৃত্যুর শোক ভেঙে ফেলতে পারেনি অনিমেষ প্রধানের মনোবল। মা তাকে দেখতে চেয়েছিলেন আইএএস অফিসার হিসেবে, মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে অনিমেষ আজ কোটি কোটি যুবকের কাছে অনুপ্রেরণা।