সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শুক্রবার রাতে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের বাড়ির সামনে তৈরি হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপির কর্মীরা তাঁর অনুগামীদের ওপর আক্রমণ করে, এমনকি ইট ছোড়াছুড়ি পর্যন্ত করে। ঘটনায় চার থেকে পাঁচজন তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন বলেই দাবি করেন সাংসদ। এমনকি রাত দুটোর সময় পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি করতেও দেখা যায় অভিষেককে। সাংসদের অভিযোগ, অনৈতিকভাবে তৃণমূলের কর্মীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সেখানেই অবস্থান-বিক্ষোভ করেন অভিষেকরা। তবে এ নিয়ে আজ বিজেপির দিকে ফের আঙুল তুললেন মমতা ও অভিষেক।
গতকালের হামলা নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক
বিজেপিকে নিশানা করে আজ ফেসবুক লাইভে এসে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “গতকাল রাত দেড়টা থেকে বিজেপির গুন্ডারা এখানে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। প্রায় সকাল সাতটা অবধি সেই তাণ্ডব দফায় দফায় চলেছে। পুলিশ ছিল। পুলিশের একাংশ যেমন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, পুলিশের একাংশ আবার বিজেপির গুন্ডাদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে। যে পুলিশ নিজেদেরকে বাঁচাতে পারে না, যে পুলিশ বিজেপির গুন্ডাদের হাতে চড়-থাপ্পড় খায়, সেই পুলিশ কোনও দিন সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।”
তৃণমূল সাংসদের আরও সংযোজন, “পাঁচ মাসে এই সরকারের শাসনকালে মে থেকে অক্টোবর অবধি প্রায় আড়াই হাজার রেপ হয়েছে, ৬০০ খুন হয়েছে, ৩২ হাজারের বেশি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। বাংলা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। যখন যেখানে ইচ্ছা, যা ইচ্ছা তাই তাণ্ডবলীলা চালাব, আর পার পেয়ে যাব, আমি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বলব, কোনও রকম কোনও প্ররোচনায় আপনারা পা দেবেন না। কালকের ঘটনা সারা ভারতবর্ষ দেখেছে। এমনকি আমাকে প্রাণে মারার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়ায়, সে আমাকে এয়ারপোর্টে গুলি করতে গিয়েছিল ১৯ জুন। আমরা একের পর এক এফআইআর করেছি। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।”
আরও পড়ুন: ক্রমশ শক্তি বাড়ছে টাকার, ডলারের বিপরীতে রেকর্ড উত্থান ভারতীয় রুপির
এদিকে গতকালের ঘটনা প্রসঙ্গে আজ সকালেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাতসকালে অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে তিনি বলেন, কাল কালীপুজো, দীপাবলি। কাল রাতে…সারারাত ধরে অভিষেকের ঘরে রাত দুটোর সময় বিজেপির লুম্পেনরা গুন্ডাগিরি করেছে। এটা আমাদের এলাকা, যেখানে দেবী কালীর অনেক শুভযাত্রা হয়ে থাকে। আপনারা কেন এরকম অশান্তি সৃষ্টি করছেন? আপনারা আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পুজোর অনুমতি বাতিল করে দিয়েছেন। অথচ নতুন পুজোগুলির অনুমতি দিচ্ছেন। গতকাল রাতে আপনারা আমাদের স্থানীয় ক্লাবগুলির কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা ইন্ডি জোটের অংশ। সেই কারণেই তাদের এত রাগ?”










