সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং প্রতীক দুটোই হারিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর একেবারে ভেঙে খানখান হয়ে যায় তৃণমূল। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একের পর এক অভিযোগ। একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়িত রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। তবে এতগুলি এফআইআর কাঁধে নিয়েও বর্তমানে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তিনি। এমনকি কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চরম আক্রমণ করেছিলেন সাংসদ। আর এবার তাঁর গোপন তথ্য ফাঁস করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষে বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধোনা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কয়েকদিন আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “যদি ক্ষমতা থাকে আপনার, আপনি এফিডেভিট দিয়ে বাংলার মানুষকে বলুন, আপনি যতদিন বাঁচবেন বিজেপি করবেন। আর যদি না দেন তাহলে ধরে নিতে হবে, যেদিন বিজেপি ভারতবর্ষ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হবে, সবথেকে আগে যে জার্সি পাল্টাবে তাঁর নাম শুভেন্দু অধিকারী।” এমনকি তার পাশাপাশি বিজেপি কেন তাঁকে জেলে ঢোকাতে পারছে না, এই প্রশ্নও করেন সাংসদ। এবার যুবরাজকে পাল্টা দিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
মিডিয়ার সামনে বৈশাখী বলেন, “আপনি মানুষের কাছে এফিডেভিট দিন যে তৃণমূল দল ভাঙার পেছনে আপনার কোনও ভূমিকা নেই। এই প্রচন্ড বড় বিপর্যয়ের পিছনে আপনার এই ইরেস্পন্সিবল কথাগুলির কোনও ভূমিকা নেই। আপনার ওই অ্যাক্টিভিটি, আপনার ওই সেনানি যা তৈরি করেছিলেন, ওই অ্যান্টি সোশ্যালিস্ট যারা তৃণমূলের পতনের জন্য দায়ী নয়, এই কথা আপনি এফিডেভিট করে বলুন।”
আরও পড়ুন: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই হবে শুনানি শেষ, মতুয়াদের সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বৈশাখী আরও বলেন, “বানরের হাতে তলোয়ার গেলে যেমন অসুবিধা হয়, ঠিক তেমনই অপরিপক্ক একজন নেতার হাতে দলের রাশ ছেড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দলটার কত বড় ক্ষতি করেছেন, এবং এখনও করছেন। এই দুদিন ধরে যখন হঠাৎ করে ইন্দ্রনীল সেন অ্যারেস্ট হল, তারপর থেকে দেখছি উনি বারবার কথা বলছেন। আমি খুব খুশি হতাম যদি উনি পুরভোট নিয়ে কথা বলতেন। উনি কীভাবে কর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। কারণ এখন তো আর খাজনা নিয়ে টিকিট দেওয়া যাবে না দলের। উনার দলের এখন যাঁরা টিকিট নেবে, তাঁরা সত্যিকারের দলকে ভালোবেসে কাজে লাগবে। এখন আর টিকিট বিক্রি করে রোজগারের রাস্তা নেই।”










