PSU-র ৫০০০ একর জমিতে গতি পাবে শিল্প, বিরাট উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

Published:

Land Bank

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্যে (West Bengal) নতুন শিল্প গড়ে তোলার জন্য জমির জোগান বাড়াতে এবার বন্ধ কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির (Public Sector Undertaking) বহুদিন ধরে অব্যবহৃত জমির দিকে নজর দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ৫০০০ একরেরও বেশি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এই জমিগুলিকে রাজ্যের শিল্পের ল্যান্ড ব্যাঙ্কে (Land Bank) অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে জমি হস্তান্তরের আবেদন জানাতে চলেছে নবান্ন (Nabanna)।

কোন জমিগুলিকে চিহ্নিত করেছে সরকার?

এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে একাধিক পরিচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি।

  • পশ্চিম বর্ধমানের রূপনারায়ণপুরে বন্ধ হিন্দুস্থান কেবলসের কারখানার জমি,
  • দুর্গাপুরে MAMC
  • এবং হলদিয়ায় হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজারের অব্যবহৃত জমি

ইত্যাদি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে রাজ্য। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় এই শিল্পাঞ্চলগুলির বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

এ ছাড়াও কাটোয়ায় NTPC-র জন্য অধিগৃহীত প্রায় ৬০০ একর জমি রাজ্যের নজরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমি এখনও শিল্পের কাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে খবর। এই জমিগুলি নতুন বিনিয়োগের উপযোগী করে তোলার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিটি জমির মালিকানা, বর্তমান অবস্থা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

রাজ্যের এই উদ্যোগের পিছনে অন্যতম লক্ষ্য হল, শিল্পের জন্য নতুন জমি সংগ্রহের চাপ কমিয়ে আগে থেকেই পড়ে থাকা অব্যবহৃত সম্পদকে কাজে লাগানো। কারণ নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত জমির ব্যবস্থা করা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জমিগুলি রাজ্যের ল্যান্ড ব্যাঙ্কে যুক্ত করা সম্ভব হলে নতুন শিল্পপ্রকল্পের জন্য জমি চিহ্নিত করা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হবে।

আরও পড়ুন: সপ্তম বেতন কমিশনে শিক্ষকদের ১১ দফা দাবি পেশ, মানবে সরকার?

তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এখনও কয়েকটি ধাপ বাকি। জমিগুলি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অধীনে থাকায় রাজ্য সরকার চাইলেই সেগুলি সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের পরেই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগোতে পারে। ফলে ৫০০০ একরের বেশি জমি চিহ্নিত হলেও সেখানে কবে নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

google button