সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সপ্তম বেতন পে কমিশন (7th Pay Commission) নিয়ে এবার সরব হল শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বেতন কমিশনের কাছে রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধন, বকেয়া অর্থ প্রদান এবং বিভিন্ন পদে কর্মরত শিক্ষাকর্মীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করল শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ, বালিচক (Sikshanuragi United Association)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া এই স্মারকলিপিতে শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট-সহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা কর্মীদের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
সপ্তম বেতন পে কমিশন নিয়ে স্মারকলিপি পেশ করল শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ
সংগঠনের সম্পাদক কিংকর অধিকারীর প্রতিনিধিত্বে এই দাবিগুলি পেশ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে মূলত রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্ব এবং কাজের পরিধি বিবেচনা করে একটি সম্মানজনক ও যুক্তিসংগত বেতন কাঠামো তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
কী কী দাবি জানানো হয়েছে?
স্মারকলিপিতে নতুন বেতন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সুপারিশ করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, বেতন সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্যকরী তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: মাসের শুরুতে ফের কমে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
বেতন সংশোধনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩.০০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। তাদের মতে, নতুন বেতন কাঠামো তৈরির সময় এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হলে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতন আরও যুক্তিসংগতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক শিক্ষক (PRT), প্রশিক্ষিত স্নাতক শিক্ষক (TGT) এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষক (PGT)-দের বেতন কাঠামো সর্বভারতীয় বেতনমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্ব, কাজের পরিধি এবং জাতীয় স্তরে সমতুল্য পদগুলির বেতন বিবেচনা করে পৃথক ও যুক্তিসংগত বেতনস্তর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ন্যূনতম প্রারম্ভিক মূল বেতন ৫১ হাজার টাকা করার দাবি
স্মারকলিপিতে ROPA-2019-এ নির্ধারিত ১৭,০০০ টাকা প্রারম্ভিক মূল বেতনের ভিত্তিতে ৩.০০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করে ন্যূনতম প্রারম্ভিক মূল বেতন ৫১,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, বেতন সংশোধনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের বেতন কাঠামো যথাযথভাবে সংশোধনের দাবিও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রুপ-ডি কর্মীদের জন্য মাধ্যমিক স্তরের উপযুক্ত বেতনস্তর এবং গ্রুপ-সি কর্মীদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক স্তরের উপযুক্ত বেতনস্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাজের ধরন, দায়িত্ব, যোগ্যতা ও কর্মভার বিবেচনা করে নতুন বেতন কাঠামোতে যথাযথ স্থান দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রশাসনিক, শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সাধারণ শিক্ষকদের তুলনায় প্রধান শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁদের জন্য সম্মানজনক এবং উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষিকাদের প্রশাসনিক, শিক্ষাগত, তত্ত্বাবধানমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ শিক্ষকদের তুলনায় উচ্চতর ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও তাঁদের দায়িত্ব অনুযায়ী উপযুক্ত বেতনস্তর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অ্যাড-হক প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিচার-ইন-চার্জদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক, শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ধিত মাসিক ভাতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত ভাতার পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করে দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের এই স্মারকলিপিতে রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের বেতন কাঠামোকে আরও সম্মানজনক, বৈষম্যহীন ও দায়িত্বভিত্তিক করার দাবি জানানো হয়েছে।










