সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) থেকে রাজ্যের বহু যোগ্য মহিলা বাদ পড়ছেন বলেই উঠছে অভিযোগ। এমনকি বিডিও অফিস, পৌরসভা পর্যন্ত ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মহিলারা। তাঁদের একটাই দাবি, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এই প্রকল্প থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে এবার বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ। সেই দাবি নিয়ে মহিলারা এদিন কল্যাণীর পঞ্চায়েত সমিতিতে ডেপুটেশন পর্যন্ত জমা দিয়ে এসেছেন।
অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বাদ পড়ছেন সংখ্যালঘু মহিলারা
এই প্রকল্প চালু হওয়ার সময়ই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়। তার মধ্যে প্রথমটি হল—সংশ্লিষ্ট মহিলা কোনও সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকলে চলবে না এবং মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি আয় হলে মিলবে না এই ভাতা। এর পাশাপাশি পরিবারের কেউ আয়কর প্রদান করলে বা ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবেন বলেই জানানো হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। তবে এবার বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠছে অন্নপূর্ণা যোজনায়।
পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন জমা দিতে এসে এক মহিলা বলেন, “আমাদের সার্ভেতে ঠিক এই তথ্যটাই উঠে এসেছে। এখানে ধর্ম কাজ করছে কেন? যে কারণে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেত, আজকে ঠিক একই প্যারামাটারগুলি বেদে যাওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা পাওয়ার জন্য। অথচ আজকে অন্নপূর্ণা যোজনায় যারা আবেদন করেছে, এই আবেদনকারীদের কী নীতির ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হচ্ছে সেটা এখনও পর্যন্ত সরকার প্রকাশ করল না।”
ওই মহিলার আরও সংযোজন, “আজকে পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সেটাই জানতে চাইব যে ধর্মীয় ভিত্তিতে যদি নামগুলো দেখেন, তাহলে কতগুলি নাম আমি বলতে পারি, একদম তাই। সংখ্যালঘু মানুষদের নাম বেশি বাদ দিয়েছে।” এমনকি প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ করেন ওই মহিলা। শুধুমাত্র সংখ্যালঘু বলেই তাঁরা এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি ওই সংগঠনের।
আরও পড়ুন: মাসের শুরুতে ফের কমে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
বলে রাখা ভালো, আগের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাবদ বাবদ যেখানে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা দিত, সেখানে বিজেপি সরকার এসে অন্নপূর্ণা যোজনায় দিচ্ছে ৩০০০ করে। ইতিমধ্যেই পঞ্চম কিস্তির টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও মিলছে না টাকা। আর এবার কাঠগড়ায় সংখ্যালঘুরা।










