সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নির্বাচনী হলফনামায় জানিয়েছিলেন যে তিনি স্নাতকোত্তর। কিন্তু যে বোমা বাঁধার সঙ্গে যুক্ত তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা কীভাবে এতটা হতে পারে? এবার শওকত মোল্লার (Saokat Molla) বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের। তৃণমূল বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে থানায় অভিযোগ লিখিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক নির্বাচনী হলফনামায় ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিয়েছেন, এবং ভুয়ো শংসাপত্র চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
শওকত মোল্লার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
উল্লেখ্য, এতদিন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন শওকত মোল্লা। তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে তাঁকে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী করা হয়। তৃণমূলের লক্ষ্য ছিল, নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তাঁকে দাঁড় করিয়ে ওই আসন জেতা। তবে সে গুড়ে বালি! ভাঙড় তো হাতছাড়া হয়ই, তার পাশাপাশি রাজ্যও হাতছাড়া হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। অন্যদিকে ক্যানিং পূর্ব থেকে আবার তৃণমূলের হয়ে জয়লাভ করেন বাহারুল ইসলাম বাপ্পা।
তবে এবার নির্বাচনী হলফনামায় শওকত মোল্লা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর, এবং তিনি রাজস্থানের সিংহানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এদিন পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস বলেন, “শওকত মোল্লার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পূর্ণ ভুয়ো। তিনি একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি এবং বিধায়ক পদ সামলাতে সামলাতে কীভাবে রেগুলার রাজস্থানে গিয়ে এমএ পাস করলেন? তিনি কি তাহলে উড়ে উড়ে ক্লাসে যেতেন? খুব বেশি হলে ফাইভ-সিক্স অবধি পড়াশোনা করেছেন।”
আরও পড়ুন: গ্যাঁড়াকলে হুমায়ূন! রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন বিধায়ক, অন্যদিকে বাড়িতে পুলিশ
এমনকি এদিন শওকতের সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিজেপি নেতা। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একদিন শওকতকে বলেছিলেন যে, “জীবনতলায় বাসস্ট্যান্ড কী করে তৈরি করবি? ওখানে তো তোরা বোমা বাঁধিস!” বিজেপি নেতার অভিযোগ, যিনি বোমা বাঁধার সঙ্গে যুক্ত তিনি কীভাবে এতদূর পড়াশোনা করেছেন?” এমনকি তিনি কখনও উচ্চ মাধ্যমিক পাস, কখনও মাধ্যমিক, কখনও স্নাতক পাস বলেছেন। আর এবার বলছেন তিনি নাকি স্নাতকোত্তর। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র সম্পূর্ণ ভুল। এমনকি তিনি ভুয়ো শংসাপত্র চক্রের সঙ্গে জড়িত বলেই দাবি করেন বিজেপির নেতা। এদিন জীবনতলা থানার পাশাপাশি বারুইপুর এসপি অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেছেন অভিজিৎ। পাশাপাশি সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।










