গ্যাঁড়াকলে হুমায়ূন! রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন বিধায়ক, অন্যদিকে বাড়িতে পুলিশ

Published:

Humayun Kabir

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ। এমনকি ‘স্যাটা ভাঙা’ মার দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। সেই কারণেই ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিয়েছিলেন। এমনকি দুটি এফআইআর-র কথাও জানান। সেখান থেকেই যেন সুর নরম নওদার বিধায়কের। তবে এদিন রেজিনগর থানায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর ঠিক সেই সময় শক্তিপুর থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে নোটিশ নিয়ে পৌঁছয়। কী কারণ?

দু’দিক থেকে চাপে হুমায়ূন কবীর

গত ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় প্রথমবার হাজিরা দিয়েছিলেন হুমায়ূন। তবে আজ অর্থাৎ ১৪ জুলাই ফের থানায় গিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে উস্কনিমূলক মন্তব্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা। যদিও থানায় হাজিরা দেওয়ার আগে পুলিশের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আবার শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে হুমকি দেওয়ার মামলায় আগামী ১৯ জুলাই তাঁকে ফের হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিধায়কের বাড়িতে গিয়েই আজ এই নোটিশ দিয়ে আসে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই শক্তিপুর থানায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়। এড়িয়ে যান তিনি। কিন্তু ৪ জুলাই নির্দেশ মেনেই রেজিনগর থানায় তিনি হাজিরা দিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, গত ৮ মে শক্তিগড় থানায় একটি বিজয় সমাবেশে হুমায়ুন বক্তব্য রেখেছিলেন। আর সেখানে অপমানজনক এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয় বলেই অভিযোগ। সেই মন্তব্য জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারত। এমনকি রেজিনগর থানায় করা এফআইআর-র বিষয় ছিল ২৬ জুন কাশিপুর হাটখেলা সংলগ্ন এলাকায় একটি জনসভায় তিনি বলেন যে, “মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলিমদের নিয়ে নামব, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করব যে আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না।”

আরও পড়ুন: ফের ৯৬-র গণ্ডি পার, ডলারের বিপরীতে অনেকটাই পতন ভারতীয় রুপির

তবে হুমায়ূন কবীর রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে আজ স্পষ্ট বলেন, “বিজেপির দাসের ভূমিকা পালন করছে শক্তিগড় থানা। আমার বিরুদ্ধে কোনও এলাকার মানুষের অভিযোগ নেই। পুলিশ বিজেপির দালালি করছে। আর বিজেপির কাছে খুশি থাকার জন্যই এসব কাজ করছে। আমাদের ভোটে না হারাতে পেরে বিজেপি পুলিশকে দিয়ে এইসব করছে। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চটি চাটত পুলিশ, আর এখানে ব্রিটিশ শাসন চলছে। পুলিশের আচরণ এখনও বদলায়নি। এই চটি চাটা কতদিন চলে সেটাও আমরা দেখব।”