ভেঙে গেল লাল দুর্গ! সিপিএমের গড়ে বামফ্রন্টের প্রার্থীকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল বিজেপির

Published:

Bihar election

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের জয়জয়কার গেরুয়া শিবিরের। বিহার বিধান পরিষদের শিক্ষক নির্বাচনের (Bihar Election) লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল বাম শিবির। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সিপিআই-র গড় হিসেবে পরিচিত তিরহুত শিক্ষক আসন ছিনিয়ে নিল এনডিএ সমর্থিত ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী নরেন্দ্র প্রসাদ সিং। ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বর্তমান ও দুই বারের জয়ী সিপিআই বিধায়ক সঞ্জয় সিংকে পরাজিত করেছেন তিনি।

সিপিআই প্রার্থীকে হারিয়ে দিল বিজেপি

মোজাফফরপুরের বিভাগীয় সদর দপ্তরের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিরহুত শিক্ষক কেন্দ্রের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে মঙ্গলবার। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বীতা এতটাই তীব্র ছিল যে প্রথম দফার ভোট গণনায় কোনও প্রার্থী বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোটা অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ভোট অর্জন করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম দফার ভোট গণনায় বিজেপির নরেন্দ্র প্রসাদ সিং ১৩৮ ভোটে এগিয়েছিলেন। এরপর দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা শুরু হলে সেখানেও কোনও প্রার্থী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এলেমিনেশন রাউন্ডের পথ বেছে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট গণনায় বিজেপির প্রার্থী সর্বোচ্চ ১৮৭২ ভোট পান। অন্যদিকে সিপিআই-র সঞ্জয় সিং ১৭১৩ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৬৫০ ভোট পান।

পরবর্তী সময়ে এলিমিনেশন রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশের পর বিজেপির নরেন্দ্র প্রসাদ সিং মোট ২৯৪৫ ভোট পেয়ে নিশ্চিত জয় তুলে নেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ভালো লড়াই দিলেও এনপি সিং শেষ পর্যন্ত ৫৯৪ ভোটের ব্যবধান জয়লাভ করেন এই কেন্দ্রে। বলাবাহুল্য, এবারের তিরহুত শিক্ষক এমএলসি নির্বাচন মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। এই আসনটি থেকে পরপর দুইবার জয়ী হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন সিপিআই প্রার্থী সঞ্জয় সিং। কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি পিছিয়ে পড়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যান।

আরও পড়ুন: অভিষেকের আবেদন শুনলই না সুপ্রিম কোর্ট

এদিকে এই নির্বাচনে নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভূষণ ঝাঁ। প্রথমে তিনি প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টির টিকিট পেলেও পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রধানকে টিকিট ফিরিয়ে দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামেন এবং ২৩৫১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। জন সুরজ পরবর্তী সময়ে অন্য প্রার্থী দিলেও সেরকম কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।

google button