সহেলি মিত্র, কলকাতা: মেট্রো যাত্রীদের জন্য রইল দারুণ সুখবর। কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) গ্রিন লাইন বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বলে খবর। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত কলকাতা মেট্রোর গ্রিন লাইন সম্প্রসারণের প্রস্তাব নতুন করে পর্যালোচনা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য সাত বছর আগে তৈরি ডিটেলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) বা বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন নতুন করে খতিয়ে দেখতে রাইটসকে (RITES) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কলকাতা মেট্রোয় বড় আপডেট
প্রস্তাবিত মেট্রো করিডরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২,৩৬৫ কোটি টাকা। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিকের খরচ, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং অন্যান্য ব্যয়ের পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারণে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রকল্পের খরচ নতুন করে হিসাব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর গ্রিন লাইন হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যাতায়াতের সুবিধা দেয়। এই লাইনে হুগলি নদীর তলা দিয়ে মেট্রো চলাচলের ব্যবস্থাও রয়েছে। এবার এই করিডরকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে হাওড়া, মধ্য কলকাতা, সল্টলেক এবং বিমানবন্দরের মধ্যে আরও সরাসরি মেট্রো যোগাযোগ গড়ে উঠতে পারে। প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদের পাশাপাশি অফিসযাত্রী ও দৈনন্দিন মেট্রো ব্যবহারকারীরাও উপকৃত হতে পারেন। তবে প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সংশোধিত ডিপিআর, প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা এবং কেন্দ্রের অনুমোদনের উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: “অপরাধ করেছে, শাস্তি পেয়েছে” গাইঘাটার এনকাউন্টার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযুক্তের মা
কেন নতুন করে ডিপিআর পর্যালোচনা?
প্রায় সাত বছর আগে তৈরি হওয়া ডিপিআরে প্রকল্পের যে ব্যয় ধরা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই হিসাব যথেষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাইটসকে প্রকল্পের সম্ভাব্য খরচ, নির্মাণপদ্ধতি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ২,৩৬৫ কোটি টাকার প্রাথমিক হিসাবের সঙ্গে বর্তমান নির্মাণব্যয়ের তুলনা করা হবে। নতুন সমীক্ষায় প্রকল্পের পরিকাঠামো, জমি ও পরিষেবা সংক্রান্ত বাধা, সুড়ঙ্গ নির্মাণের ঝুঁকি এবং অন্যান্য খরচও বিবেচনায় আসতে পারে। প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মেট্রোর পথ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাইকখালি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অংশে মাটির নীচ দিয়ে মেট্রো চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে উড়ালপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে গড়িয়া–বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের পরিকাঠামো এবং হলদিরাম উড়ালপুলের মতো বিষয়গুলি বাধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ সরকারি প্রাথমিক স্কুলে বসছে ওয়াটার পিউরিফায়ার, বিরাট উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
একাধিক দফতরের সঙ্গে আলোচনা চলছে
প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই আলোচনায় রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা, সিইএসসি, পূর্ত দফতর, সেচ দফতর, বিধাননগর পুরনিগম, পুলিশ, কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন (KMRC) এবং পরিবহণ দফতরের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এই সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ ও জলের লাইন, নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তা, ট্রাফিক এবং অন্যান্য পরিষেবার উপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে মেট্রো নির্মাণের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্র ও রাজ্যের ৫০:৫০ খরচ ভাগের প্রস্তাব
প্রস্তাবিত প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ৫০:৫০ অনুপাতে খরচ ভাগাভাগির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই পক্ষকেই সমান অনুপাতে অর্থের দায়িত্ব নিতে হবে। তবে এই আর্থিক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সংশোধিত ডিপিআর তৈরি হলে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটির পরবর্তী অগ্রগতির জন্য কেন্দ্রের অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।










