গেরুয়া ঝড়ের পরই ভাঙল শপথ! ১০ বছর পর মুখে ভাত তুললেন শীতলকুচির বিজেপি কর্মী

Published:

BJP Worker

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিবর্তনের আশায় ভরসা করেই এবার ২৬ এর নির্বাচনে বড় রায় দিল বাংলার জনগণ। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে এবার বাংলার মসনদে বসল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। আর তাতেই যেন বড় আশ্বাস পেলেন বঙ্গ বিজেপি কর্মীরা। প্রতিজ্ঞা পূরণে কেউ চুল কাটছেন, কেউ বা আবার গঙ্গা স্নান করছেন। তবে শীতলকুচি (Sitalkuchi) তে দেখা গেল এক অন্য চিত্র। বিজেপি জেতায় প্রায় ১০ বছর পর ভাত খেলেন এক বিজেপি কর্মী (BJP Worker)।

বিজেপির জয়ের প্রতিজ্ঞা কর্মীর

সূত্রের খবর, শীতলকুচি ব্লকের ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের আওয়ালি কুড়া বুথের বাসিন্দা হলেন বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মণ। তিনি ২০১৬ সালের কোচবিহার লোকসভা উপনির্বাচনে বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন। কিন্তু সেইবার নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল সমর্থকেরা। জিনিসপত্র লুঠপাট করার পাশাপাশি রান্না করা ভাতের হাঁড়িও ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর সেই থেকেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না। আর এবার সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হতেই ১০ বছর পর খেলেন তৃপ্তির ভাত।

বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন

গত ৪ মে, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের একাধিক জেলার পাশাপাশি শীতলকুচি ব্লকের ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতে রীতিমত গেরুয়া ঝড় উঠেছিল। কারণ টানা ১০ বছর পর অবশেষে বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মণের প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে। এদিকে বিজেপি জিততেই ঘটা করে তাঁর ভাত খাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন দলের কর্মীরা। অনেকেই একে অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এলাকার মানুষকেও। এক প্রকার ধুমধাম করেই রীতিমত উদযাপন করা হয়েছে দিনটি।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি পরীক্ষায় বয়সসীমা বৃদ্ধি, সঙ্গে একাধিক ঘোষণা রাজ্য সরকারের

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে, এক বিজেপি কর্মী জানিয়েছেন যে, “ গত ১০ বছর ধরে ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন সুভাষ ভাই। কারণ ১০ বছর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ পরপর দুই বছর ১০ থেকে ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। রান্নার বাসনপত্রও ভেঙেচুড়ে দেয় তৃণমূলের গুণ্ডা বাহিনী। তাই সুভাষ ভাই প্রতিজ্ঞা করে বসেন, যতদিন না বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসে, ততদিন পর্যন্ত ভাত খাবেন না। এবার সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছে জনগণ। তাই আমরা অন্নপ্রাশনের মতোই ধুমধাম করে পালন করলাম অনুষ্ঠান।”