প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ (West Bengal Election 2026) হতে চলেছে। তাই বেশ থমথমে পরিবেশ রাজ্য জুড়ে। এদিকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপকদের নিয়োগ নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের জট যেন কিছুতেই কাটছে না। অবশেষে সিঙ্গল বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশ স্থগিত করা হল। এবার অধ্যাপকদের দিয়ে ভোটের কাজ করানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) নির্দেশই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
প্রিসাইডিং অফিসার নিয়ে বিতর্ক
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজ করার জন্য রাজ্যের সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে কিছু দিন আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে তাঁদের পৃথক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানায় কমিশন। কিন্তু অধ্যাপক হয়েও কেন প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ করতে হবে এই প্রশ্ন তুলে অধ্যাপকদের একাংশ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এর বেঞ্চে সেই মামলা উঠল কমিশন কোনও সঠিক কারণ জানাতে পারেনি। পরে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানান, সদুত্তর না মেলায় কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেন। তবে এবার সেই রায় খারিজ করল ডিভিশন বেঞ্চ।
স্থগিত করা হল সিঙ্গল বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশ
রিপোর্ট মোতাবেক, ভোটের কাজে অধ্যাপকদের নিয়োগ করার প্রসঙ্গ নিয়ে যখন তর্ক বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে সেই সময় ফের হাইকোর্টের তরফে বড় রায় প্রদান করা হল। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, “ভোটের কাজ করতেই হবে অধ্যাপকদের। নির্বাচন স্তব্ধ করে দিতে চাইছেন আপনারা। কিন্তু আপনাদের সেই ক্ষমতা নেই। আপনারা একটা গন্ডগোল পাকাতে চাইছেন, যার অনুমতি দেবে না আদালত।” বিচারপতি আরও জানিয়েছেন, “দেশের সেবা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আপনারা কোন পদে কাজ করতে চান, সেটাই স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। আপনারা কি অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভার পদে কাজ করতে চান? সেই পদে কাজ করার যোগ্যতামান কি আপনাদের আছে?”
প্রিসাইডিং অফিসার নিয়ে অধ্যাপকদের মতামত
মামলাকারীদের আইনজীবী পদমর্যাদা এবং পে স্কেল অনুযায়ী ভোটের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। অধ্যাপকদের বক্তব্য ছিল, প্রিসাইডিং অফিসারদের উপরে থাকেন সেক্টর অফিসার। কিন্তু পদমর্যাদায় তাঁরা অধ্যাপকদের থেকে নীচে। যা মানা যাচ্ছে না। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, সেক্টর অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। প্রিসাইডিং অফিসার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ভাবে চালানোর কাজ করেন। সেক্টর অফিসারের কাজ বল রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমন্বয় সাধন করা এবং কিছু প্রয়োজন হলে জানানো। সেক্টর অফিসার প্রিসাইডিং অফিসারের উপর খবরদারি করবেন, এমন ভাবার অবকাশ নেই।
আরও পড়ুন: ‘মমতা দিদি, তেরা সময় সমাপ্ত’—কুলটির সভায় শাহের তীব্র কটাক্ষ মমতাকে
উল্লেখ্য, অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভাররা সাধারণত সরকারি অফিসার হন এবং প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকে তাঁদের। কিন্তু অধ্যাপকরা সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কলেজে পড়ান। তাই অবজার্ভারদের সঙ্গে তুলনা করা সম্পূর্ণ অনর্থক। এর আগে, গত বিধানসভা নির্বাচনেও অধ্যাপকেরা এই কাজ করেছিলেন বলে দাবি কমিশনের। কিন্তু কমিশনের অভিযোগ এ বার কেন অধ্যাপকেরা এই কাজে আপত্তি করছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।










