প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লক্ষ্মী পুরুষের পর এবার খবরের শিরোনামে উঠে এল পুরুষ অন্নপূর্ণা! মহিলাদের জন্য ঘোষিত অন্নপূর্ণা প্রকল্পের (Annapurna Yojana) ৩০০০ টাকা ঢুকল এবার এক পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তুমুল শোরগোল এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার (Nadia) ভীমপুর। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে মহিলাদের জন্য ঘোষিত ও নির্ধারিত অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি প্রকল্পের টাকা কীভাবে একজন পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়ল।
পুরুষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা!
রিপোর্ট অনুযায়ী, নদিয়ার ভীমপুর থানার অন্তর্গত চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেন সঞ্জিত বিশ্বাস। তিনি পেশায় একজন গ্রামীণ চিকিৎসক। সরকারি নিয়ম মেনে বার্ধক্য ভাতার সুবিধাও পেয়ে থাকেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিন আগে সেই বার্ধক্যভাতার টাকা তুলতে গিয়ে এক অবাক ঘটনা ঘটে তাঁর সঙ্গে। যেই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে বার্ধক্য ভাতা থাকে সেখানে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকাও ঢুকছে। অর্থাৎ বার্ধক্যভাতার নির্দিষ্ট অঙ্কের পাশাপাশি তাঁর অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা এসেও জমা হয়েছে। আর তাই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কী বলছেন ওই চিকিৎসক?
ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে দুই সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকতে থাকায় সঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, তিনি কখনও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেননি। এবং এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হওয়ারও কথা নয়। ফলে কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা হল, সে নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। এদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও সেই টাকা তিনি নেয়নি বলেই দাবি করেছেন। তিনি জানান, “ ওই টাকা আমার প্রাপ্য নয়, তাই ওই সরকারি টাকা আমি তুলিনি, ওভাবেই রেখে দিয়েছি। শুধু আমার প্রাপ্য বার্ধক্যভাতার টাকাই তুলে বাড়ি ফিরেছি।”
আরও পড়ুন: অভিষেকের ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার ৫০ হাজার ত্রিপল
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই পুরুষদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। ইতিমধ্যে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। এমতাবস্থায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা কোনো পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢোকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের অনুমান, সরকারি তথ্যভাণ্ডারের বড়সড় কোনও ত্রুটি থেকেই এই বিভ্রান্তি। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










