সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের ঋতব্রত শিবিরে ভাঙন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতার সঙ্গ ত্যাগ করে বিরোধী শিবিরের নাম লিখিয়েছিলেন মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামীম আহমেদ (Shamim Ahmed)। তবে এবার মমতা তৃণমূলেই রয়েছেন বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনকে ইমেইল পাঠালেন তিনি। এমনকি সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীদল নেতা মনোনীত করা সমর্থনে সই ছিল এই বিধায়কেরও। তবে কয়েক মাস কাটতেই রাজনৈতিক অবস্থান বদল করলেন তিনি।
ঋতব্রত ছেড়ে মমতার তৃণমূলে আরও এক বিধায়ক
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন তৃণমূল গঠন করেন অন্তত ৬০ জনের বেশি বিধায়ক। ঋতব্রতরাই এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল এবং সেই দলের নেতা ঋতব্রত নিজে। যদিও দুই শিবিরেরই নাম এবং প্রতীক হারাতে হয়েছে। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবেই উপনির্বাচনে লড়েছেন ঋতব্রতরা। এদিকে ঋতব্রতসহ ১০ জন বিধায়কের পদ বাতিলের দাবিতে মমতা তৃণমূলের করা মামলা সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও একের পর এক বিধায়ক নতুন শিবির ছেড়ে কালীঘাটেই আস্থা রাখছেন।
বিধানসভা ভোটের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হয়েছিলেন মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামীম আহমেদ। তবে কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই নিজের অবস্থান বদল করলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে এদিন ইমেইল পাঠিয়ে তিনি জানিয়ে দেন যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে যদি তাঁর নামে কোনও হলফনামা জমা দেওয়া হয়, তাহলে সেটি যেন উপেক্ষা করা হয়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনেই হলফনামা দিয়েছেন এবং মমতা ও অভিষেকের পাশেই রয়েছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেও দেখা যায়। ওইদিনই তিনি নির্বাচন কমিশনকে ইমেইল করেন।
আরও পড়ুন: ‘সুপ্রিম কোর্টের কাছে হেরেছি, বিজেপির কাছে নয়’ অভিষেকের নিশানায় এবার শীর্ষ আদালত
প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কালীঘাট শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনিও বলেন, “মমতার সঙ্গেই আছি। মমতার প্রতীকেই জিতেছি। ভুল বুঝিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেটি সাময়িক বিভ্রান্তি।” পাশাপাশি সম্প্রতি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মহিলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। একে একে নতুন শিবির ছেড়ে কালীঘাটে বিধায়কদের ফেরায় যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শক্তি আরও বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।










