পছন্দের স্কুল, অনুমতি ছাড়া বদলিতে না! টিচার ট্রান্সফার নীতি বদলের পথে বিকাশ ভবন

Published:

Bikash Bhavan

সহেলি মিত্র, কলকাতা: শিক্ষকদের জন্য রইল জরুরি খবর। এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে বদলির (Teacher Transfer Rules) নীতিতে বড় বদল আসতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। মূলত রাজ্যের সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে শিক্ষক বদলির নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে একাধিক নিয়মে পরিবর্তন আনা হতে পারে। শুধু তাই নয়, এবার থেকে শিক্ষক বদলির গোটা প্রক্রিয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) পাশাপাশি সরাসরি যুক্ত হতে পারে স্কুলশিক্ষা দফতরও। ফলে আগামী দিনে শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুলের পরিস্থিতি এবং পড়ুয়াদের স্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

শিক্ষক বদলি নীতিতে বড় বদলের সম্ভাবনা

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষকেরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এই পোর্টাল ঠিকমতো কাজ না করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি বদলির বর্তমান নিয়ম নিয়েও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা বদলি প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও বাস্তবসম্মত করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।

বর্তমানে কোনও শিক্ষক নিজের বাড়ির কাছাকাছি অন্য জেলা বা এলাকায় বদলি হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট স্কুলে শূন্যপদ থাকার ভিত্তিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় শুধু পছন্দের স্কুলে শূন্যপদ থাকলেই বদলি নিশ্চিত হবে না। বদলির আবেদন স্কুল সার্ভিস কমিশনে জমা পড়লেও স্কুলশিক্ষা দফতরের অনুমতি নিয়ে তবেই বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে কমিশন বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পর প্রথমবার বিদ্যুৎ পেল ৪০০ আদিবাসী পরিবার, খুশির আবহ হুগলীর গ্রামে

কতটা লাভবান হবেন শিক্ষকরা?

নতুন নিয়মের ভাবনা অনুযায়ী, বদলির আবেদন বিবেচনা করার আগে রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শূন্যপদের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাঁকুড়ার কোনও স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক যদি কলকাতার যাদবপুরে নিজের বাড়ির কাছাকাছি বদলি হতে চান, তাহলে শুধু যাদবপুরের স্কুলগুলিতে ইতিহাসের শিক্ষকের শূন্যপদ দেখা হবে না। বরং কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষকের প্রয়োজন কতটা, সেটিও বিবেচনা করা হতে পারে।

অর্থাৎ, কোন স্কুলে শিক্ষক-সঙ্কট বেশি, কোথায় শিক্ষক পাঠানো জরুরি এবং কোথায় বদলি করলে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় থাকবে, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দফতরের এক কর্তার বক্তব্য, শিক্ষকেরা যাতে নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি থেকে কাজ করতে পারেন, সেটি সরকারও চায়। তবে কোনও শিক্ষকের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যার ফলে সংশ্লিষ্ট স্কুলে শিক্ষক-সঙ্কট আরও বাড়ে এবং পড়ুয়াদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই বিষয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেছেন, “শিক্ষকের চাহিদা এবং পড়ুয়া স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বদলি হলে তবেই এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হবে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে শিক্ষকেরা ইতিমধ্যেই বদলির আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদনের যেন নিষ্পত্তি হয়।”

সব মিলিয়ে, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাজ্যের স্কুলগুলির সামগ্রিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই নতুন বদলি নীতির অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। যদিও এই পরিবর্তনগুলি এখনও ভাবনাচিন্তার পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

google button