অনন্যা সরকার, কলকাতা: এবার রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠক্রমে নতুন বিষয় হিসেবে যুক্ত হতে চলেছে রোবোটিক্স (Robotics), কোডিং (Coding), পাইথন (Python) এবং তথ্যপ্রযুক্তি (IT)। রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যক্রমে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (ICT) নামে একটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হবে। এই বিষয়ের মধ্যে রোবোটিক্স, কোডিং, পাইথন এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন মৌলিক দিক শেখানো হবে।
পাঠক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন বিষয়
আগামী বছর জানুয়ারি মাসে শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ে, অন্যান্য মূল পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকও শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এছাড়াও শিক্ষা দফতর জানিয়েছে যে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য হিন্দি, সংস্কৃত ও আরবি ভাষার পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে সরবরাহ করবে রাজ্য সরকার, যাতে তাদের বাজার থেকে আর বই কিনতে না হয়।
রাজ্য পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্যরা জানাচ্ছেন যে, প্রযুক্তি-ভিত্তিক এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ফলে রাজ্যের বিদ্যালয়গুলো সিবিএসই (CBSE) বা সিআইএসসিই (CISCE)-এর মতো কেন্দ্রীয় বোর্ডগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে, যারা ইতিমধ্যেই তাদের পাঠক্রমে এ ধরনের কারিগরি সম্পর্কিত বিষয় যুক্ত করেছে। তবে, সরকারের এই উদ্যোগটি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন যে, বিশেষায়িত শিক্ষকের অভাব থাকলে এই ক্লাসগুলো পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: সিসিটিভি ক্যামেরায় ছেয়ে যাবে মন্দারমণি, দুর্ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ পদক্ষেপ
এক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন যে, কয়েক বছর আগে যখন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (AI) ও ‘ডেটা সায়েন্স’ (Data Science)-এর মতো বিষয়গুলো চালু করেছিল, তখন প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষকদেরই ওই ক্লাসগুলো নিতে হয়েছিল। আর যদি উচ্চ প্রাথমিক স্তরেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে এই ক্লাসগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা মুশকিল হয়ে যাবে।
শিক্ষাবিদরা জানাচ্ছেন, উচ্চ প্রাথমিক স্তর থেকেই প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষা চালু করার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, কিন্তু এর জন্য সরকারকেই শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। এগুলি যথাযথভাবে করতে পারলে এই নতুন পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী দক্ষতা অর্জনে প্রকৃত সহায়তা করতে পারবে।










