আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে এক কোটি টাকারও বেশি নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এবার এই ঘটনা নিয়ে প্রমাণসহ মুখ খুললেন ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করলেন, টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এর পিছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র। নিজের দাবির সমর্থনে একাধিক নথি ও ভিডিও ফুটেজ থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কী বলছেন সাংসদ অভিষেক?
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, “এটা আজকের নয়, আজ থেকে সাড়ে পাঁচ মাস আগে, আমরা ২২ মে এই চিঠিটা মেল করে পাঠিয়েছি। এখানে স্পষ্ট লেখা আছে, আমরা আশঙ্কা করছি, যে গুন্ডারা এই ভাঙচুরটা করেছে, তারা হয়তো কিছু প্ল্যান্ট করে যাবে। হয়তো তারা আগ্নেয়াস্ত্র, টাকার মতো জিনিসপত্র প্ল্যান্ট করে যাবে। আজ থেকে সাড়ে পাঁচ মাস আগেই আমরা আন্দাজ করে এই বিষয়টা মেল করে পাঠিয়েছি। যারা সেদিন ভাঙচুর করেছিল, তাদের মধ্যে একজনও গ্রেফতার হয়নি। সাড়ে পাঁচ মাস কেটে গেছে। সাড়ে পাঁচ মাস পরে হঠাৎ পুলিশের মনে হল, এমন জায়গায় তল্লাশি করার কথা, যেখানে অলরেডি পুলিশ তদন্ত করেছে এবং যেটা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সেখান থেকে নাকি এক কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে! আপনারা কোথাও শুনেছেন, একটা ক্রাইম সিনে পাঁচ মাস পর টাকা উদ্ধার হয়েছে? তাই যদি হয়, তাহলে তো আগে আইসির চাকরি যাবে। এমনটাই যদি হয়, তাহলে তো আগে অ্যাডিশনাল এসপি, এসপির চাকরি যাবে।”
তিনি আরও বলেছেন, “ইতিমধ্যে সুমিত রায়ের স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ যদি কোনও ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমাদের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, সুমিত রায়কে সেখানে নিয়ে গিয়ে বলা হয়েছে, আপনি সবটা স্বীকার করুন যে আপনি এই সমস্ত কিছু জানতেন। সুমিত রায় তাঁর আইনজীবীকে জানিয়েছেন যে তিনি কিছু জানেন না এবং তাঁকে জোরজবরদস্তি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে যখন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার আগেই সেখানে পুলিশ অফিসাররা মজুত ছিলেন। আর অলরেডি টাকার মেশিন নিয়ে টাকা গোনার কাজ চলছিল। অর্থাৎ, এই সমস্ত এভিডেন্স ইচ্ছাকৃতভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। আমার কাছে গোটা বিষয়টার ভিডিও রয়েছে। পুলিশকর্মীরা সুমিত রায়কে কী বলছেন, সেই সমস্ত ভিডিও রয়েছে আমার কাছে।”
সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর দাবি, সুমিতের স্ত্রী ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং টাকা উদ্ধারের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিষেক।
এরপর পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “আর যারা ওখানে পুলিশের পদে রয়েছেন, তাঁরা জেনে রাখুন, আমি ১২ বছরের সাংসদ। কী ভাবছেন, পাপ করে পার পেয়ে যাবেন, কেউ ধরবে না? জায়গাটার নাম ডায়মন্ড হারবার আর সাংসদের নাম অভিষেক ব্যানার্জি। আইনি ব্যবস্থা আমি নেব। আর কে আপনাদের চাকরি বাঁচায়, আমি দেখছি।”
অভিষেক জানান, “২ তারিখ সামিম আহমেদকে ডেকে পাঠান এসপি। সামিম আহমেদকে তিনি জিজ্ঞাসা করেন কী জানো বলে ফেলো। একজন অলরেডি কাস্টারিতে রয়েছে। উনি সামিম আহমেদকে বলছেন বানিয়ে বল, এসপি চন্দ্রশেখর বর্ধন কথাটা বলছেন বানিয়ে বল। পার্টি অফিস খুলবি? বাইরে খুলবি না জেলের ভেতরে খুলবে ঠিক কর। ২ তারিখ বেলা বারোটার ঘটনা। উনি বলছেন তোকে দু’দিনের টাইম দিলাম, ঠিক কর কী করবি। দু’দিনের মধ্যে ঠিক কর নইলে তোকে অ্যারেস্ট করব।”
আরও পড়ুন: বাবরের নামে হচ্ছে না মসজিদ! মুখ্যমন্ত্রীকেই মান্যতা দিয়ে সুর নরম হুমায়ুন কবীরের
এখানেই থেমে থাকেননি অভিষেক। ডায়মন্ড হারবার থানার আইসির ব্যবহৃত গাড়ি নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ডায়মন্ড হারবারের আইসি যে কালো এসইউভি ব্যবহার করেন, রাত একটা থেকে তিনটের মধ্যে সেই গাড়ি করে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনি যে গিয়েছেন, সেই ভিডিও আমার কাছে আছে। আমার কাছে সমস্ত ফুটেজ রয়েছে। আপনি মামলা করুন, আমি সব কোর্টে জমা দেব। আপনার গাড়ি দাঁড় করিয়ে সেখানে টাকার ব্যাগ নামানো হয়েছে।” সাংবাদিকদের সামনে প্রমাণ সঙ্গে নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলে গোটা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি।










