জিয়াগঞ্জে রাতারাতি উধাও লেনিনের মূর্তি, অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে

Published:

Jiaganj

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জিয়াগঞ্জে (Jiaganj) রাতারাতি উধাও এবার লেনিনের মূর্তি, বৃহস্পতিবার সকালে এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো তাজ্জব স্থানীয়রা। রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তরজা বেশ বাড়ছে। আর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ (Jiaganj Lenin Statue Missing) জানা গিয়েছে, শ্রীপৎ সিং কলেজের সামনে থেকে রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে লেনিনের মূর্তি। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

লেনিনের মূর্তি চুরি জিয়াগঞ্জে

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত জিয়াগঞ্জ এলাকায় শ্রীপৎ সিং কলেজের সামনে থেকে রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয় লেনিনের মূর্তি। কিন্তু সেই সময় এই খবরটি প্রথমে চাওর হয়নি। পরে গতকাল, বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি নজরে আসতেই নতুন করে এলাকায় চর্চা শুরু হয়। কিন্তু কে বা কারা মূর্তিটি সরাল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় বামেদের অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস-এর লোক যাঁরা মূর্তির মাথার অংশ ভেঙেছিল, তারাই নাকি মূর্তিটি সরিয়ে ফেলেছেন। ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে পুলিশে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভেঙে ফেলা হয়েছিল মূর্তির সামনের অংশ

সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, “যারা মূর্তিটির মাথা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, তাঁরাই এই কাজে জড়িত। আমরা থানায় এবং পুরসভায় অভিযোগ জানিয়েছি, ঘটনায় যাঁরা যুক্ত তাঁদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” এর আগে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরের দিন অর্থাৎ ৫ মে রাতে জিয়াগঞ্জের এই মূর্তিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। সেই সময় ওই মূর্তির মাথার সামনের অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। যদিও সেই সময় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছিল জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। কিন্তু এবার কয়েক মাস পরেই মূর্তি গায়েব নিয়ে ফের শোরগোল শুরু হল এলাকায়।

আরও পড়ুন: শিলিগুড়িতে ঘুষ চেয়েই বিপাকে সরকারি আধিকারিক, প্রতিবাদ করতেই দৌড়! ভাইরাল ভিডিও

ইতিমধ্যেই জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি সরানোকে কেন্দ্র করে বামেদের আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। আর তাতেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তবে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। মূর্তিটি কারা সরিয়েছে, কেন সরানো হয়েছে এবং এর পিছনে কারও নির্দেশ ছিল কি না, সেই সমস্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

google button