অনন্যা সরকার, নদিয়া: প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে অ্যাভোকাডোর চাষ (Avocado Farming) করে অভাবনীয় সাফল্য পেলেন নদিয়া জেলার রানাঘাটের প্রগতিশীল কৃষক দিব্যেন্দু বিশ্বাস। আগে মনে করা হতো যে, অত্যন্ত পুষ্টিকর ও মূল্যবান এই ফলটি পাহাড়ি এলাকা বা নির্দিষ্ট কিছু জলবায়ু অঞ্চল ছাড়া চাষ করা অসম্ভব, কিন্তু সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচনের মাধ্যমে দিব্যেন্দু বিশ্বাস প্রমাণ করেছেন যে, বাংলার সমতল ভূমিতেও এই ‘সুপার ফুড’-টি সফলভাবে চাষ করা সম্ভব। কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন তিনি, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার অ্যাভোকাডো চাষে সাফল্য
পশ্চিমবঙ্গে অ্যাভোকাডো চাষে এই সাফল্য রাজ্যে কৃষির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। দিব্যেন্দু বিশ্বাস জানাচ্ছেন, সব ধরনের অ্যাভোকাডোর ফলন পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে ভালোভাবে না হলেও, কিছু হাইব্রিড বা সংকর জাত অত্যন্ত লাভজনকভাবে চাষ করা যায়। এই ফল চাষের জন্য জৈব পদার্থসমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, যার পিএইচ (pH) মাত্রা ৫ থেকে ৬-এর মধ্যে থাকা দরকার। এছাড়া জমিতে জল নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকাও খুব প্রয়োজন, কারণ অ্যাভোকাডো গাছ জমা জলে বা অতিরিক্ত লবণাক্ত মাটিতে বেঁচে থাকতে পারে না।
গাছগুলোর প্রকৃত বৃদ্ধির জন্য ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও পর্যাপ্ত আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়। এর সাথে, শীত ও গ্রীষ্ম – দুই ঋতুতেই নিয়মিত পরিচর্যা এবং অন্তত সপ্তাহে একবার সেচ দেওয়ার দরকার হয়। আমের মতো মাঘ-ফাল্গুন মাসে কুঁড়ি ধরে এই গাছে এবং ১৫ জুলাই থেকে ফসল তোলা হয়। দিব্যেন্দু বিশ্বাসের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ অন্যান্য স্থানীয় কৃষকদেরও আধুনিক ও বিকল্প কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে অনুপ্রাণিত করছে।
আরও পড়ুন: ১০ নভেম্বরের পর এরা রেশন কার্ডে আর পাবেন না ফ্রি সামগ্রী, জানিয়ে দিল খাদ্য দফতর
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতীয় বাজারে প্রতি কেজি অ্যাভোকাডো ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে, মাত্র কয়েক বিঘা জমিতে অ্যাভোকাডোর বাগান গড়ে তুলে বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব, যা প্রচলিত ফসল চাষ থেকে পাওয়া আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সঠিক পরিকল্পনা, পরিকাঠামো ও সরকারি সাহায্য পেলে অ্যাভোকাডো চাষ পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।










