সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে বাংলায় নির্বাচনের হাওয়া, অন্যদিকে গুজরাটের স্থানীয় নির্বাচনে বিরাট ফলাফল (Gujarat Election Result)। রাজনৈতিক দলগুলোর যখন জয়জয়কার অবস্থা, ঠিক তখনই প্রচারের সমস্ত আলো কেড়ে নিয়েছে গোধরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রথাগত ছক ভেঙে দিয়ে ঐতিহাসিক নজির গড়েছেন নির্দল হিন্দু মহিলা প্রার্থী অপেক্ষাউবেন নৈনেশভাই সোনি। জানা যাচ্ছে, এই ওয়ার্ডের ভোটারদের ১০০ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়া সত্বেও তাঁরা তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে একজন হিন্দু মহিলাকেই বেছে নিয়েছেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরাট রেকর্ড
গোধরা পৌরসভা নির্বাচনের এই জয়কে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অদ্ভুত বিষয়—নৈনেশভাই সোনি এই ওয়ার্ডের নথিভুক্ত কোনও ভোটারই নন। তা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন। আর এই জয় থেকেই প্রমাণ মিলছে যে, সাধারণ মানুষ এখনও পর্যন্ত ধর্মীয় বা জাতিগত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন আর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যে গোধরা একসময় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জন্য শিরোনামে থাকত, সেই গোধরাই আজ সামাজিক ঐক্যের নতুন মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, গুজরাটের স্থানীয় নির্বাচনে একক অধিপত্য বজায় রেখেছে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। এই রাজ্যের ১৫টি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আমেদাবাদে ১৯২টি আসনের মধ্যে ১৪৬ টিতে জিতেছে বিজেপি। আর কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ১৮টি আসন। অন্যদিকে অন্যান্য শহর অর্থাৎ রাজকোট ও ভাদোদরার মতো কর্পোরেশনে ৬৫টি করে আসন দখল করেছে বিজেপি। এছাড়াও জামনগর, নবসারি, সুরাট, সুরেন্দ্রনগর ইত্যাদি শহরেও বিপুল সংখ্যারিষ্ঠতা রয়েছে রাজ্যে শাসক দলের।
আরও পড়ুন: প্রভিডেন্ট ফান্ডে মাসে ৫০০০ টাকা বিনিয়োগে ৩০ বছর পাবেন ৮০ লাখ! দেখুন হিসেব
উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুজরাটে নিজেদের সংগঠন মজবুত করার জন্য লড়াইয়ে এসে বিরাট সাফল্য পেয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। মঙ্গলবার তারা প্রথমবার নর্মদা জেলা পঞ্চায়েত দখল করেছে। এছাড়াও ১২টি তালুকা পঞ্চায়েতে জয় পেয়েছে তারা। ফলত আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাকে যে আরও জবরদস্ত করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।










