বাগানবাড়ি, গাড়ি, কোটি কোটি টাকার মালিক! জানেন ইন্দ্রনীল সেনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত?

Published:

indranil sen

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রি ঘিরে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ! সেই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ম্যাসআর্ট সোসাইটির মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ এবং সেই অর্থের লেনদেন। এই মামলায় ইডি ও কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামায় ইন্দ্রনীল সেনের ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন? তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা কত? কী কী সম্পত্তি রয়েছে তাঁর নামে?

কত টাকার মালিক ইন্দ্রনীল সেন?

ইন্দ্রনীল শুধু রাজনীতিক নন, পেশায় একজন সংগীতশিল্পীও। ১৯৮৩ সালে কলকাতার নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৮৬ সালে চেন্নাইয়ের হিন্দুস্তান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি থেকে এয়ারক্রাফ্ট মেনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেন। নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর পেশা হিসেবে পেশাদার সংগীতশিল্পীর উল্লেখ রয়েছে, তাঁর স্ত্রীর পেশা ব্যবসা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ১০ কোটি ৭৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫৮৬ টাকা। একই হলফনামায় তাঁর মোট দায়ের পরিমাণ ৪ কোটি ৫৬ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৫৪ টাকা। অর্থাৎ, সম্পত্তির পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের দায়ের হিসাবও রয়েছে হলফনামায়।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নিজের নামে ঘোষিত অস্থাবর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে একটি টয়োটা ইনোভা এবং একটি হন্ডা সিটি। হলফনামায় গাড়ি দুটির ঘোষিত মূল্য যথাক্রমে ৪৭,৭৯৮ টাকা ও ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৮৫ টাকা। তাঁর নিজের নামে ৩২ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে, যার ঘোষিত মূল্য ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ৭৬৫ টাকা। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামে রয়েছে ৭৫ গ্রাম সোনার গয়না, যার মূল্য ৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ১৩৬ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে স্ত্রীর নামে সিঙ্গুরে ‘মোহর’ নামে একটি বাগানবাড়ির উল্লেখ রয়েছে, যার ঘোষিত মূল্য প্রায় ২৯.১৩ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক ও কসবায় দুটি আবাসনের তথ্যও রয়েছে।

কিন্তু দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির তদন্তে উঠে আসছে আরও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। সূত্র অনুযায়ী, ম্যাসআর্ট সোসাইটিকে ঘিরে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা বলে ইডির প্রাথমিক অনুমান। অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির সময় ইউনেস্কোর সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে এই অর্থের কতটা কোথায় গিয়েছে, কারা লাভবান হয়েছেন এবং কোনও বেআইনি লেনদেন হয়েছিল কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও বিচারাধীন।

আরও পড়ুন: ৫৩ কোটির সরকারি টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ, আরও বিপাকে ইন্দ্রনীল সেন

এই মামলায় ২৮ অক্টোবর ইডির দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতা পুলিশ ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করে বলে জানা গিয়েছে। ম্যাসআর্ট সোসাইটির সঙ্গে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইডির বক্তব্যে ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন অকটেভ রেকর্ডস থেকে মমতা ব্যানার্জির অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন এই অর্থকে রয়্যালটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে সামনে আসতে পারে। তবে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে এই লেনদেনের সূত্রে কোনও অপরাধমূলক কাজকর্ম রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তদন্তে যদি নতুন তথ্য উঠে আসে, তা খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ্যে আসবে।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন