সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূল সরকারের আমলে নারদা স্টিং অপারেশন মামলায় নাম জড়িয়েছিল বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) সহ তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন নেতা এবং মন্ত্রীর। যদিও পরবর্তী সময় সিবিআই সাংসদ এবং রাজ্যের মন্ত্রিসভার তৃণমূলের মোট ১২ জন শীর্ষ নেতা ও একজন আইপিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তবে এখন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে কাকলি ঘোষসহ অন্যান্য সাংসদরা। সেই আবহে এবার নারদার টাকা নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কাকলি ঘোষের।
নারদার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার
এদিন মিডিয়ার সামনে অকপটে বারাসাতের সাংসদ জানান, “আমি কী করে বলব কে জড়িত? আমি হয়ত দেখে বলতে পারব যে অনেক অর্থ আসছে। সেই অর্থ কি সৎ পথে এসে ট্যাক্স দেওয়া হচ্ছে, নাকি অসৎ পথের ট্যাক্স, এটা জানার কোনও ইচ্ছা নেই আমার। আপনারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার একটা ছবি দেখেন, যেখানে এই ঘরের এই টেবিলের উপর টাকা রাখা আছে একটি বান্ডিলে, এবং একজন ছবি তুলেছে। কে ছবি তুলেছে? আমি জানি তাঁর নাম সন্তোষ।”
কাকলি আরও বলেন, “আমাকে একজন সাংসদ, তিনি আমার সতীর্থ, তিনি বলেছেন, ইলেকশনে আমি খরচা করব। তখন ১৪ সালে ইলেকশন হচ্ছে লোকসভার। আমি বললাম আমার আর দরকার নেই। আমার তো আর সেরকম ইলেকশনের খরচ লাগছে না। উনি জোর করে একজনকে পাঠালেন। সেই লোকটি এসে বললেন তাঁর নাম সন্তোষ। সেই লোকটির পকেটে যে আইফোন চালানো ক্যামেরা, আমি তো সেটা জানি না। তিনি বললেন, আপনাকে এই সাংসদ এই টাকাটা পাঠিয়েছেন। বলে এখানে টাকাটা রাখলেন। তারপর বাইরে যারা বসেছিল, সঙ্গে সঙ্গে ইলেকশনের খরচ দিয়ে দেওয়া হল।”
ছবি তোলার প্রসঙ্গে কাকলি জানান, “ছবিটা যে সে তুলে রেখেছিল, সেই ছবিটা সংবাদমাধ্যমে এবং অসামাজিক সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে, যারা নিজেদের বামপন্থী বলছে বা সাধারণ মানুষ বলছে, তবে আমরা জানি তারা আইটি সেলের লোক, আমাকে খোঁচাবার চেষ্টা করছে। তবে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পরিবার। আমরা ত্যাগ করতে জানি। তবে সেই টাকার খরচ আমি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে ইলেকশনের সময় দিয়ে রেখেছিলাম। এমনকি তার এফিডেভিট ছিল। আমার তরফ থেকে সেই টাকার হিসাব দেওয়া আছে। তবে ওই ছবিটা ইউজ করছে আমাকে দুর্বল করার জন্য।”
আরও পড়ুন: “৬৭ হাজার দিদি…” অন্নপূর্ণা যোজনা সহ একাধিক প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কাকলি বলেন, “আমার তো টাকার হিসাব দেওয়া আছে। তবে আমার কাছে টাকাটা পাঠিয়েছে কে। সেই টাকাটা কি ইনকাম ট্যাক্স পেইড মানি? যে সন্তোষ নাম বলেছিল তার নাম আসলে সন্তোষ নয়। তাহলে সেই সন্তোষ কে? তাকে টাকাটা কে দিয়েছিল আমাকে ফাঁসানোর জন্য? তবে কে ফাঁসানোর চেষ্টা করছিল আমি জানি। সে পালিয়ে গেছে দেশ ছেড়ে। তবে সেই টাকাটার সোর্স কী? এটা নিয়ে প্রশ্ন করার সময় এসেছে।”










