প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি সরকার গঠন করতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)। এই আবহে দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গ ধরে রাখতে নতুন কৌশল আঁটলেন মমতা অভিষেক (Abhishek Banerjee)। জানা গিয়েছে, দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে এবার থেকে প্রত্যেকদিন কালীঘাটে নিজের বাসভবনেই ‘জনতার দরবার’-এ বসবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মূলত দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতেই নেওয়া হতে চলেছে এই উদ্যোগ।
আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ নেতাদের
ক্ষমতাচ্যুত হতে না হতেই একের পর এক দলীয় নেতা, সাংসদ, বিধায়ক, পুরপ্রতিনিধিরা সঙ্গ ছাড়ছেন মমতা অভিষেকের। আদি তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন নয়া তৃণমূলে। কিন্তু দমছেন না দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়েই চলতে চায় সে। এই মুহূর্তে দল চালাতে হলে আগের মতো সংগঠন মজবুত করাই মূল লক্ষ্য। কিছুদিন আগে ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর আইপ্যাকের বিরুদ্ধে একের পর এক নেতা সরব হয়েছিলেন। সেইকারণে আর ভোটকুশলী সংস্থার উপর পুরোপুরি ভরসা রাখতে চাইছেন না মমতা। এবার সরাসরি কথোপকথন হবে বিধায়ক, সাংসদ এবং মন্ত্রীদের সঙ্গে।
মমতার জনতার দরবার
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলবেন। রবিবার বাদে সরাসরি সপ্তাহে ছ’দিন বিকেল তিনটে থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কালীঘাটে মমতার বাসভবন থেকে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মতামত শুনবেন মমতা। অনেকটা শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারের মতন হবে বিষয়টি। জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে অভিষেকও থাকবেন। বাসভবনের পাশাপাশি তৃণমূলের সদর কার্যালয়েও থাকবেন শীর্ষ পর্যায়ের কোনও না কোনও নেতা। সেখানেও কর্মীদের জন্য দরজা খোলা থাকবে। তবে এই দু’টি জায়গা ছাড়া অন্য কোনও অফিস বা কার্যালয় থেকে তৃণমূলের রাজনৈতিক সংযোগ করা হবে না।
আরও পড়ুন: আখতারের মৃত্যু! শোয়েবের পরিবারে ভাঙল দুঃখের পাহাড়
কী বলছেন কুণাল ঘোষ?
তৃণমূল সূত্রের খবর, আপাতত কাউকে কোনও পদ দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করা হচ্ছে না। পরে পরিস্থিতি দেখে, সদস্য বুঝে কারা আদি তৃণমূলে থাকলেন, তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কিছু সাংগঠনিক রদবদল করে অভিষেক ছাড়াও আরও দুই সাংসদকে যৌথ ভাবে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এখন দেখার পরবর্তীতে কারা কোন পদ গ্রহণ করে। মমতার জনতার দরবার নিয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “শুধু ওই কয়েকঘণ্টা নয়। মমতাদি রাত দুটো আড়াইটে পর্যন্ত ফোনে থাকছেন। সব সামলাচ্ছেন।” ঋতব্রতদের নিশানা করে তিনি বলেন, তাঁরা তো এলাকায় যান না। কর্মীদের সঙ্গেও নেই।










