বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গতকালই সোনারপুরে হামলা হয়েছে তৃণমূল (Trinamool Congress) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। সেই ঘটনার পর পরই রবিবার চন্ডীতলায় আক্রান্ত হন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর দুই হেভি ওয়েটের সাথে ঘটা ঘটনায় এবার কি ভয় পেয়ে গেলেন তৃণমূলের বিধায়করা? আসলে রবিবার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়িতে ডাকা পরিষদীয় দলের বৈঠকে 80 জনের বদলে হাজির হয়েছিলেন 20 জন বিধায়ক। আর তারপরেই উঠছে এমন প্রশ্ন। যদিও পর্যাপ্ত বিধায়ক উপস্থিত না থাকায় বাতিল হয়েছে সেই বৈঠক।
বাতিল হল গোটা বৈঠক
আগেই তৃণমূলের জয়ী বিধায়ক সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিয়ে রবিবার বিকেলে পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৈঠক হওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তবে দেখা গেল বিকেল গড়াতেই একে একে প্রথমে 17 এবং সবশেষ 20 জন বিধায়ক হাজির হলেন। বাকিদের পাত্তাই পাওয়া গেল না!
তৃণমূল সুপ্রিমোর বাড়ির বৈঠকে জয়ী 60 জনের কাছাকাছি বিধায়ক উপস্থিত না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয় কালীঘাটের ওই বৈঠক। বলে রাখা প্রয়োজন, মূলত তৃণমূলের সমস্ত বিধায়কের সাথে সমন্বয়ে বাড়াতেই নেত্রী মমতাকে বৈঠকে হাজির থাকার অনুরোধ করেছিলেন বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক সফল হল না। জানা যাচ্ছে, বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরেই প্রশ্ন উঠছে, জনতার কাছে মার খাওয়ার ভয়েই কি কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে এলেন না তৃণমূলের বাকি বিধায়করা?
এ প্রসঙ্গে অবশ্য তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, “শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার পরই তৃণমূলের বিধায়করা নানান কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের নেতাকর্মী সমর্থকরা মার খাচ্ছেন। তাঁদের উপর হামলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত! কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি চলছে। আর এসব কারণেই তৃণমূলের বিধায়করা আগের দিনই ফোনে কঠিন পরিস্থিতিতে এখনই বৈঠক না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বরং পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বৈঠক ডাকার অনুরোধ করেন তাঁরা।”
অবশ্যই পড়ুন: কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার জমিতে বাড়ি, মদন মিত্রর বাসভবনের তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ
তৃণমূল সূত্রে খবর, রবিবারের বৈঠক বাতিল হওয়ার পর দলের বিধায়কদের নিয়ে পুনরায় কবে বৈঠক করা হবে এবং সেই বৈঠক স্থল কী হবে সেটা খুব শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে আপাতত নাকি গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবং সহযোদ্ধারা।










