সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় নির্বাচনের পারদ এখন তুঙ্গে (West Bengal Election 2026)। উত্তরপাড়া নির্বাচনী জনসভা থেকেই এবার কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একযোগে নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা ব্যানার্জির
আসলে ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট লুটের আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, নন্দীগ্রামে সিআরপিএফকে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিলেন। আর তাঁকে নিয়ে মিটিং করে বলা হয়েছে যে ভোট স্লো করে দাও। যাতে মানুষ আর ভোট দিতে না পারে। আমার ভবানীপুরেও দায়িত্ব দিয়েছে। তাতে আমার বয়ে গিয়েছে। তোরা কাঁচকলা করবি আমার। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভবানীপুরে বহিরাগতদেরকে ঢোকানো শুরু করেছে বিজেপি। আর বাসে করে বাইরের লোক নিয়ে আসা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনী লড়াইয়ে সম্পদের বিপুল অসম বণ্টনের অভিযোগ তুলে মমতা বলেছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আজ অর্থাৎ শনিবার বিজেপির ৫০টি হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। সাধারণ দল হিসেবে তৃণমূল তিনটি হেলিকপ্টার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, ভোটের পর বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহলে সেই ফর্মগুলি গড়াগড়ি খাচ্ছে। আর বিহারের উদাহরণ টেনে এনে তিনি বলেছেন, সেখানকার মানুষ বাংলার মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যে ভুল করছেন তা যেন বাংলার মানুষ না করেন। সেখানে বুলডুজার দিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গরমে যাত্রীদের বিনামূল্যে জল, ৯০০ স্পেশাল ট্রেনও চালাবে রেল
এদিকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে সরব রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোট মিটলেই পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম আবারও আকাশছোঁয়া হবে। দেশে কৃষকদের আত্মহত্যা বাড়ছে আর সাধারণ শ্রমিকদের কোনও রোজগার নেই। এদিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে হিন্দুদের গীতা ছুঁইয়ে আর মুসলিমদের কোরআন ছুঁইয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে বলা হচ্ছে। আর বিনামূল্যে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে বাংলার শ্রমিকদের টেনে নিয়ে এসে ২০০০ টাকা করে স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছে বিজেপি। সবথেকে বড় ব্যাপার, বিজেপিকে হানাদার এবং হুল্লা বাহিনী আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “ও মন্ত্রী মশাই। ষড়যন্ত্রী মশাই। থেমে যান। চালাকি ভোট আর চলবে না।”










