সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিধানসভার পাশাপাশি লোকসভাতেও ভেঙে চুরমার মমতার (Mamata Banerjee) তৃণমূল। ৬০-র বেশি বিধায়ক নিয়ে একদিকে তৈরি হয়েছে ঋতব্রত শিবির, অন্যদিকে লোকসভার ২০ জন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যোগদান করেছেন এনডিএ সমর্থিত এনসিপিআই দলে। এদিকে বিধানসভায় ঋতব্রতদেরই এখন আসল তৃণমূল হিসেবে মান্যতা দিয়েছে রাজ্যের উচ্চ আদালত। এমনকি বিরোধী দলনেতা হিসাবেও নির্বাচিত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে নির্বাচন কমিশনকে দ্বিতীয় চিঠি পাঠালেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
নির্বাচন কমিশনকে দ্বিতীয় চিঠি কালীঘাট তৃণমূলের
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৯ জুলাই কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের আসল দাবিদার সংক্রান্ত তদন্তের সময়সীমা আপাতত শেষ। যত দ্রুত সম্ভব এই মামলা নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তবে তখন ঋতব্রত শিবির তৃণমূলের নাম, তহবিল এবং প্রতীক ব্যবহারের অধিকার চেয়ে নিজেদের দলীয় গঠনতন্ত্র আর সাংগঠনিক নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় চেয়ে নেয়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হলেও তথ্য-প্রমাণসহ চিঠি জমা দিতে ব্যর্থ হয় ঋতব্রত শিবির। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূল তাদের সমস্ত তথ্য জমা দেয় বলেই খবর।
সেই সূত্রে কমিশনকে দ্বিতীয় চিঠি পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি আসল তৃণমূলের দাবিদার সংক্রান্ত তদন্তের ইতি টানতে অনুরোধ করেছেন দলনেত্রী। পাশাপাশি আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকীর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে গত ২৫ আগস্ট লেখা একটি ইমেইলের প্রতিলিপি চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন মমতা। সেখানে সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, গত ২২ জুন ঋতব্রতরা কলকাতার নিউটাউনের এক হোটেলে তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন ডাকলেও তার কোনও বিজ্ঞপ্তি দলের বিধায়ক বা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, হয়তো নির্বাচন কমিশন এই মামলা ঝুলিয়ে না রেখে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা নিষ্পত্তি করতে পারে। তবে এই মামলার রায় কোন দিকে যাচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে দিল্লিতে ২০ জন সাংসদের ভবিষ্যৎ। যদি কমিশন ঋতব্রতদের আসল তৃণমূল হিসেবে মান্যতা দেয়, তাহলে এই ২০ জন সাংসদের উপর থেকে চাপ অনেকটাই কমবে। তবে যদি তৃণমূলের হাত বদল না হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে এই ২০ জন সাংসদকে দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। এমনকি বিজেপি চাইলে তাদের নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। এখন সবটাই নির্ভর করছে কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর।










