মমতা সমর্থন করতেই গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান, কী কারণে?

Published:

Milan Pradhan

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বিরাট গোলযোগ। পুরনো একটি খুনের মামলায় গ্রেফতার হলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পুরনো খুনের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে মিলন প্রধানের। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও বেরিয়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তবে মমতার দলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসকে সমর্থন করতেই আটক হলেন মিলন প্রধান।

প্রার্থীপদ প্রত্যাহার সঞ্চিতা দে প্রধানের

এর আগে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে তাঁকেই প্রার্থী করেছিল মমতা-শিবির। শুক্রবার হলদিয়ার মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন সঞ্চিতা। তার আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে কেন তিনি পদ প্রত্যাহার করলেন, সেই কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি।

কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা মমতার

সঞ্চিতা দে প্রধান প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার পর নন্দীগ্রাম নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি জানান, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাঁর শিবির কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। অর্থাৎ এই কেন্দ্রে মমতা-শিবিরের আলাদা কোনও প্রার্থী থাকছে না। মমতা জানান, বৃহত্তর জোটের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার, অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা, একই দিনে নন্দীগ্রামের ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে।

আরও পড়ুন: আশ্বিন মাসেও বৃষ্টির দাপট, দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় সতর্কতা, আগামীকালের আবহাওয়া..

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এল মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর। পুরনো খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। মামলাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ওই মামলায় মিলন প্রধান অভিযুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও ছিল। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী প্রত্যাহার থেকে শুরু করে কংগ্রেসকে সমর্থন এবং তার পরেই কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি, সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে।