প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে মোট ১৫২ টি কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (West Bengal Election 2026) চলছে। দিকে দিকে বিক্ষিপ্ত কিছু গন্ডগোলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও EVM ত্রুটি, কোথাও ভোটগ্রহণে দেরির মতো ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। তার মধ্যেই জেলায় জেলায় মারপিটের অভিযোগ উঠছে। আর এসবের মাঝেই অবাক করা ছবি ফুটে উঠল নন্দীগ্রামে (Nandigram)। তৃণমূলের দাপুটে নেতা শেখ সুফিয়ানকে(Sheikh Sufian) এবার বাড়ির বাইরে দেখা গেল না।
বাড়িতেই বসে শেখ সুফিয়ান
এমন একটা সময় ছিল যখন শেখ সুফিয়ানের দাপটে নন্দীগ্রামে বাঘে-গোরুতে একই ঘাটে জল খেত। নির্বাচন হলেই গোটা নন্দীগ্রাম দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু এখন সেই নেতাই ঘরে বসে আছেন। এবার সেই কারণ নিজেই প্রকাশ্যে আনলেন। শেখ সুফিয়ানের দাবি, আসলে তাঁর নামে নাকি অনেক মিথ্যে মামলা দিয়ে রাখা হয়েছে, যা আদতে সত্যি নয়। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্যই বাইরে বেরোচ্ছেন না তিনি। আর তাতেই বিরোধীদের ধারণা তিনি ভয় পেয়েছেন বিজেপিকে। যদিও সেই অভিযোগে আমল দেননি শেখ সুফিয়ান। এদিকে কিছুদিন আগেই ভোটের প্রচারের সময় টাকা বিলির অভিযোগে নন্দীগ্রামে গ্রেফতার হন তাঁরই জামাই হাবিবুর রহমান। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম শোরগোল হয়নি।
গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামাইকে
বিজেপির তরফে অভিযোগ উঠে আসে যে, দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাবিবুর রহমান ভোটের দুইদিন আগে, প্রচার করার সময় সাধারণদের টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ভোট তৃণমূলের পক্ষে না পড়লে কী করা হবে সেই হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। শেষে এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাতারাতি বড় পদক্ষেপ নেয় নির্বাচন কমিশন। মহাম্মদপুর থেকে পুলিশ হাতেনাতে তাঁকে গ্রেফতার করে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই নিয়ে শাসকশিবিরে কম শোরগোল হয়নি। তবে টাকা বিলির ঘটনা অস্বীকার করেছে তৃণমূল। প্রসঙ্গত, বছর দেড়েক আগে তমলুক কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক নির্বাচনে কাঞ্চননগরের বোমাবাজির ঘটনায় তিনি NIA-র খাতায় ওয়ান্টেড হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মুম্বইয়ের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে আসছে টেসলা, বড় ঘোষণা মাস্কের সংস্থার
সম্প্রতি বোমাবাজির ঘটনায় নন্দীগ্রামের ৪৩ জনকে NIA পুনরায় নোটিস পাঠিয়েছিল। আর সেই তালিকায় হাবিবুরের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু পরে শোনা যায় সেই নোটিসে হাজিরা দিতে এনআইএ-র দফতরে যাননি এই হাবিবুর। অন্যদিকে আজ নির্বাচনে প্রথম দফায় মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভায় ভোটের কারচুপির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, সেখানকার একটি বুথে নাকি কোনও প্রার্থীকে ভোট দিলেই তা গিয়ে পড়ছে বিজেপি প্রার্থীর প্রতীকে! এমন অভিযোগকে ঘিরে উত্তপ্ত ওই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গোদাপাড়া ১৮৬ নম্বর বুথ। সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয় ওই বুথে।










