সাগরদিঘি, জঙ্গিপুর, ফারাক্কায় হারছে তৃণমূল! বিস্ফোরক TMC প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস

Published:

Bayron Biswas

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত ২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) হয়েছিল। ১৬টি জেলায় মোট ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। বেশ কয়েক জায়গায় অশান্তির ছবিও প্রকাশ্যে এসেছিল। যদিও কোথাও পুনর্নির্বাচন হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কমিশন (Election Commission Of India)। এমতাবস্থায় শুক্রবার রাতে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। EVM স্ট্রংরুমের সামনে গিয়ে ব্যাপক হাঙ্গামা করার অভিযোগ উঠল সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের (Bayron Biswas) বিরুদ্ধে।

পুলিশদের চরম গালিগালাজ বায়রনের

রিপোর্ট মোতাবেক বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ফারাক্কা, শামশেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর এবং সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের EVM স্ট্রংরুম করা হয়েছে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে। আর সেখানেই শুক্রবার রাতে ঝামেলা পাকানোর অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেসত্যাগী তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ওইদিন ব্যাপক হাঙ্গামা করার পাশাপাশি সেখানে নিরাপত্তা প্রদানকারী পুলিশদের চরম গালিগালাজ করেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি India Hood।

দফায় দফায় বন্ধ করা হয়েছিল CCTV

সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের অভিযোগ, রাত প্রায় ১০টার দিকে দলের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তিনি স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, কিন্তু ভেতরে গিয়ে দেখেন সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও, সেগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য বাইরে কোনও স্ক্রিন নেই। বিষয়টি নজরে আসতেই জঙ্গিপুর মহকুমা আধিকারিকদের অভিযোগ জানালে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পর্যবেক্ষণের জন্য স্ক্রিনও বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটল না। অভিযোগ, রাতে দফায় দফায় CCTV বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল। আর তাই নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক গণ্ডগোল। বায়রনের দাবি, “আমি হারছি, জাকির হারছে, আমিরুল-নুর আলম ও হারছে (সাগরদিঘি, জঙ্গিপুর, সামসেরগঞ্জ, ফারাক্কা)। বাংলায় ন্যায্যভাবে ভোট প্রক্রিয়া হচ্ছে না।”

আরও পড়ুন: বাংলার কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচন নয়! বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

বায়রন বিশ্বাসের অভিযোগ, রাত ১২টার দিকে এবং রাত ১টার দিকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অল্প সময়ের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। তাই তিনি ভোর ৪টে নাগাদ ক্যাম্পাসে এসে স্ট্রংরুমে ঢোকার অনুমতি চাইতে থাকেন কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। আর সেই কারণেই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই রাজ্য পুলিশকে গালিগালাজ করতে দেখা যায় সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থীকে। মেরে চামড়া গুটিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাও সতর্কতা বাড়িয়ে দিলে ওই এলাকা থেকে ফিরে আসেন বায়রন বিশ্বাস।