ক্যামেরা আগে থেকেই ছিল? মোদীর ঝালমুড়ি বিতর্কে গোপন তথ্য ফাঁস বিক্রেতার

Published:

Narendra Modi Jhalmuri Controversy

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এইমুহুর্তে বঙ্গ রাজনীতিতে ভোটের প্রচারের মাঝেই তুমুল চর্চা চলছে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার (Narendra Modi Jhalmuri Controversy) প্রসঙ্গ। রবিবার জনসভা শেষে ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ে একটি দোকানে বাঙালির প্রিয় ঝালমুড়ি চাখলেন মোদি (Narendra Modi)। এদিকে তাঁকে দেখে জড়ো হন আশপাশের সাধারণ মানুষজন। চমকে ওঠেন ঝালমুড়ি বিক্রেতাও। তাঁর এই বিরল জনসংযোগ নিয়ে যদিও কম কটাক্ষ করেনি অনেকেই। বিরোধীদের ধারণা সবটাই স্ক্রিপটেড। তবে এবার সকল জল্পনা উড়িয়ে সেই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিলেন খোদ ঝালমুড়ি বিক্রেতা।

রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বিক্রেতা

রবিবার ঝাড়গ্রামে সভা করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকে ফেরার পথে ঝালমুড়ি খান বিক্রমকুমার সাউ নামের এক ব্যক্তির দোকানে। আর তারপরেই ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায় সেই দোকান। অনেক লোকজন এখন বিক্রমের দোকান দেখতে আসছেন এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আসছেন। যাঁরা সকাল সন্ধে তাঁর দোকানের সামনে আড্ডা মারেন, তাঁরাও ঘুরে ঘুরে দেখছেন। এমনকি এলাকার বিজেপি নেতা কর্মীরাও এখন বিক্রমের দোকানে ভিড় করছেন। এককথায় বলা যায় ঝাড়গ্রামের জনপ্রিয় দোকান হয়ে উঠেছে এটি।

মোদীর ঝালমুড়ি বিতর্কে মমতা

রবিবার মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে অনেক রাজনীতিবিদ নানা কটাক্ষ করে চলেছে। এমনকি এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জনসভায় ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘সবটাই আগে থেকে সাজানো, সবটাই নাটক ১০ টাকা কখনও ওঁর পকেটে থাকে? ঝালমুড়িও নিজেরা তৈরি করে রেখেছে। না হলে দোকানে ক্যামেরা ফিট করা থাকল কী করে?’। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সত্যিই কি সব কিছু সাজানো ছিল। এবার সেই একই প্রশ্ন করা হল ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউকে।

কী বলছেন বিক্রেতা?

বিক্রম কুমার সাউ বলেছেন, “সে সব আমি কী করে বলব? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দোকানে আসার মিনিট দশেক আগে কালো পোশাকে বডিগার্ড–এর মতো এক জন এসে মুড়ি খেতে চেয়েছিলেন। উনি মুড়ি কিনে যাওয়ার পরে দেখলাম দোকানের সামনের বাঁশের ব্যারিকেড খোলা হয়। আমি তখনও কিছু জানতাম না। আর ওই কালো পোশাক পরা ব্যক্তি আমাকে কিছুই বলেননি।” এছাড়াও তাঁর আরও সংযোজন, “মোদীজী আমাকে এসে যখন জিজ্ঞাসা করলেন ঝালমুড়ি আছে কি না, আমি যে কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। ১০ টাকার মুড়ি কিনলেন তিনি। আমি টাকা নিতে চাইনি। তিনি জোর করে দিলেন।”

আরও পড়ুন: মোদীর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ ৭০০ শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মীর

অভিযোগ উঠেছিল যে দোকানে আগে থেকে নাকি ক্যামেরা বসানো ছিল। সেই প্রশ্নের উত্তরে বিক্রম জানিয়েছেন “দোকানে আগে থেকে কোনও ক্যামেরা লাগানো ছিল না। প্রধানমন্ত্রী আসার পরেই এক জন ক্যামেরাম্যান দোকানের ভিতরে ঢুকে এসেছিলেন।” এছাড়াও সাজানো দোকান নিয়ে বিক্রমের দাবি, “আমার দোকান প্রতিদিন এরকমই সাজানো থাকে।” জানা গিয়েছে, আদতে বিহারের গয়ার বাসিন্দা হলেন বিক্রম। তিনি ১২ বছর ধরে ঝালমুড়ি, ছোলা ভাজা, বাদাম ভাজা, চাল ভাজা বিক্রি করেন। প্রথমে ঠেলা গাড়ি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে একটি ছোট্ট গুমটি ঘর ভাড়া নিয়ে ঝালমুড়ির দোকান করেন।