প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর ফাঁকি দিয়ে কাজ নয়, এবার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের ‘অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি’ বা আনঅথরাইজড লিভ নিয়ে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর (Swasthya Bhawan)। জানা গিয়েছে, ক্ষমতার রদবদল হতেই জরুরি নির্দেশিকা জারি করে গত ১১ বছরে অনুমতি ছাড়া কতজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী (Health Department Employee) কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং একাধিক বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে রাজ্যের সব জেলার মেডিক্যাল কলেজ-সহ সব সরকারি হাসপাতালে। মাথায় হাত পড়ল কর্মীদের।
প্রশাসনের নজরে এবার ডাক্তাররা!
সূত্রের খবর, পূর্বতন সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছিল যে এমন অনেক অধ্যাপকই রয়েছেন যাঁরা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ বা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক হয়েও সারা সপ্তাহ থাকতেন কলকাতায়। অর্থাৎ জেলার মেডিক্যাল কলেজে নাম নথিভুক্ত থাকলেও সে সময় চুটিয়ে প্র্যাকটিস করতেন অন্যত্র। তাই এবার এই গোটা প্রসেসের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে নয়া সার্কুলার জারি করল স্বাস্থ্যদপ্তর। ২০১৫ সালের পর থেকে স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের সমস্ত অনুমোদনহীন ছুটির তালিকা চাইল রাজ্য সরকার। নয়া সার্কুলার জারি করল স্বাস্থ্যদপ্তর।
ফাইল দ্রুত তলব স্বাস্থ্যদপ্তরের
সম্প্রতি জারি করা সরকারি সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসক, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য পরিষেবা, পশ্চিমবঙ্গ ডেন্টাল পরিষেবা, ও পশ্চিমবঙ্গ জনস্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক পরিষেবা ক্যাডারের অধীনে কর্মরত সমস্ত মেডিক্যাল অফিসার, স্পেশালিস্ট মেডিক্যাল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন এবং সরকারি হাসপাতালের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্তাদের মধ্যে যাঁরা অনুমতি না নিয়ে ডিউটির সময় অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের তথ্য অবিলম্বে দিতে হবে স্বাস্থ্যদপ্তরকে। সাতদিনের মধ্যে সেই তথ্য জমা দিয়ে হবে স্বাস্থ্য দপ্তরকে।
নথি যাচাইয়ের নির্দেশ
সূত্রের খবর, প্রশাসনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, মেডিক্যাল কলেজের সুপার, ভাইস প্রিন্সিপাল, অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্টদের অনলাইনে এই তথ্য জমা দিতে হবে। তার জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিদের ই-মেল আইডিতে অনলাইন পোর্টালের লিঙ্ক ও লগ ইন সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে। সেখানেই লগ ইন করে সমস্ত তথ্য দিতে হবে। তবে তথ্য দেওয়ার আগে ভালো করে সেই নথি যাচাই করার নির্দেশও দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই গোটা তালিকা তৈরি করে অনলাইনে তা জমা করতে হবে।
আরও পড়ুন: মাত্র ২৫৫০ টাকায় কামাখ্যা দর্শন! দারুণ প্যাকেজ আনল IRCTC
প্রসঙ্গত, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে শুরু থেকেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রাশ শক্ত করে ধরার চেষ্টা চলছে। তাই শুরুতেই সরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পথে নামল সরকার। স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক নানা পদক্ষেপের পথও খুলে যেতে পারে এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে।










