না বলে হিন্দুদের হালাল মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ, তুলকালাম কাণ্ড কৃষ্ণনগরের মাদার্স হাটে

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হালাল মাংস বিক্রি করে বিতর্কে কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) নামকরা রেস্তোরাঁ মাদার্স হাট। রেস্তোরাঁটিতে সংখ্যালঘুদের জন্য তৈরি হালাল মাংস অন্যান্য গ্রাহকদেরও পরিবেশন করা হচ্ছে এমন অভিযোগে হোটেলটির সামনে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ওই বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মীও। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে। বেশিরভাগ গ্রাহকেরই দাবি, সংখ্যালঘু ভাইদের জন্য হালাল মাংসের পাশাপাশি হিন্দুদের জন্যও আলাদা করে ঝটকা-মাংসের ব্যবস্থা করা হোক।

হালাল মাংস খাওয়ানো হচ্ছে হিন্দুদেরও!

কৃষ্ণনগরের অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ মাদার্স হাট। এই রেস্টুরেন্টটিতে খেতে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ গ্রাহকদের। এবার সেই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ। কয়েকজন গ্রাহকের দাবি, ওই হোটেল কর্তৃপক্ষ না জানিয়েই হিন্দু গ্রাহকদের হালাল মাংস খাওয়াচ্ছে। তাঁদের সাফ দাবি, ওই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘুদের জন্য তৈরি হালাল মাংস অন্যান্য গ্রাহকদেরও পরিবেশন করে।

এও অভিযোগ, ওই রেস্তোরাঁর মেনু কার্ডে হালাল মাংসের কথা উল্লেখ নেই কোথাও। এক ক্ষুব্ধ গ্রাহক জানান, তাঁরা হোটেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেছিলেন সেখানে হালাল মাংস ছাড়া অন্য মাংস পাওয়া যায় কিনা। তাঁকে জানানো হয়েছিল সেখানে শুধুই হালাল মাংস বিক্রি হয়। ওই গ্রাহকের অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের মেনু কার্ডে বা আলাদাভাবে কোথাও জানাচ্ছে না তাঁরা শুধুই হালাল মাংস বিক্রি করছে। এদিকে সেসব না জেনেই দিনের পর দিন হালাল মাংস খেয়ে নিচ্ছেন হিন্দু গ্রাহকরা। এমন দাবিতেই গতকাল রাতে ক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অবশ্যই পড়ুন: নেই একটা হাত, অনাথ আশ্রম থেকে দত্তক নেন কোচ, সেই দিলীপ দেশের হয়ে জিতলেন সোনা

এদিন, হিন্দু গ্রাহকদের না জানিয়ে হালাল মাংস খাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওই নামকরা রেস্তোরার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির শাখা সংগঠনের কর্মীরাও। স্থানীয় গ্রাহক থেকে শুরু করে বিজেপি কর্মী প্রত্যেকেরই দাবি, নিজেদের ভুলের জন্য গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিক হোটেল কর্তৃপক্ষ! একই সাথে, রেস্তোরাঁয় হালাল মাংসের পাশাপাশি হিন্দুদের জন্য ঝটকা মাংসের ব্যবস্থা করা হোক। শুধু তাই নয়, এবার থেকে ওই হোটেল কর্তৃপক্ষকে নিজেদের মেনু কার্ডে কোনটা হালাল মাংস আর কোনটা ঝটকা সেটা আলাদা করে চিহ্নিত করে দেওয়ারও অনুরোধ জানান তাঁরা। যেই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। যদিও খবর পেয়ে সেদিন রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পরে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তাঁরা।