অরুণাচল সীমান্তে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ বানাচ্ছে চিন, কী বিপদ হতে পারে ভারতের?

Published:

China–India Border

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত–চিন সীমান্ত (China–India Border) নিয়ে ফের বাড়ল উদ্বেগ। এবার তিব্বতের ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ (Hydroelectric Dam) নির্মাণের কাজ শুরু করল ড্রাগনের দেশ (China)। প্রকল্পটির অবস্থান ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। যার কারণে বিষয়টি নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে ভারতের কপালে। কারণ, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার জলপ্রবাহ, পরিবেশ এবং উত্তর–পূর্ব ভারতের কৃষি ব্যবস্থার উপরে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে গোটা পরিস্থিতির উপরে কড়া নজরদারি চালাতে হচ্ছে ভারত সরকারের।

বড় প্রকল্প চিনের

জানিয়ে দিই, তিব্বতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ইয়ারলুং স্যাংপো নদী পরে ভারতে প্রবেশ করে সিয়াং নামে পরিচিতি লাভ করে, এবং পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। যার ফলে নদীর অববাহিকায় চিনের যে কোনও বড় নির্মাণ প্রকল্পের সরাসরি প্রভাব যে ভারতের উপর পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বেজিংয়ের দাবি, এই প্রকল্প বিপুল পরিমাণ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের আশঙ্কা, এত বড় বাঁধ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আনতে পারে, এবং অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

কী বিপদ হতে পারে ভারতের?

আসলে ভারতীয় নিরাপত্তা এবং জলসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের ফলে ভারতের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রথমত, ব্রহ্মপুত্র নদের জল প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমের কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। তৃতীয়ত, নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এবং দীর্ঘমেয়াদে জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও জটিলতা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, নদীর অববাহিকায় জলধারণ বা হঠাৎ জল ছেড়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ভবিষ্যতে নিম্ন অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে নেমেই ইতিহাস, এমন করা বিশ্বের প্রথম প্লেয়ার হলেন মেসি

এদিকে লোকসভায় লিখিত উত্তরে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চিনের সমস্ত কর্মকাণ্ডের উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত উন্নয়নগুলিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে। এমনকি নয়াদিল্লি আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে নিম্ন অববাহিকায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জীবন সুরক্ষিত থাকে। কারণ, নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী নদী প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছে। আর ভারত চিনের কাছে বারবার অনুরোধ করেছে, যাতে আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির আগাম তথ্য জানানো হয়, এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে এবার কূটনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।