আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং ভিআইপি পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ প্রবেশাধিকার এবং প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রির জন্য ইউনেস্কোর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ‘মাস আর্ট সোসাইটি’, তাঁর স্ত্রী এবং সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। বুধবার ইডির দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর সেখান থেকে বেরোতেই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন প্রাক্তন মন্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে (Mamata Banerjee) কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কী বললেন শুভেন্দু?
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “ওঁর বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই তদন্ত চলছে। একদিকে ইডি, একদিকে কলকাতা পুলিশ। তাঁরা নিশ্চয়ই কিছু পেয়েছেন। তবে ইন্দ্রনীল সেন একা খেয়েছেন এটা ভাবা ভুল হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাইয়ে খেয়েছেন। শুধু উনি নন, আরও বড় জায়গায় হাত পড়বে, দেখতে থাকুন।” অর্থাৎ, ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। সরাসরি মমতা ব্যানার্জির নাম টেনে এনে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্ত হলে একে একে সব নাম বেরিয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশাধিকারের পাস বিক্রি নিয়ে অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নামে ইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইন্দ্রনীলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর একাধিকবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বুধবারও প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরনোর পরই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: CJP-র বিরুদ্ধে ৫০ কোটির জরিমানার আবেদন, সুপ্রিম কোর্টে যেতে বলল দিল্লি হাইকোর্ট
এই মামলায় আরও অভিযোগ উঠেছে, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তের কেন্দ্রে থাকা সংস্থাটির বিরুদ্ধে প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতা ব্যানার্জির অ্যাকাউন্টেও ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। ইন্দ্রনীলের পক্ষ থেকে ওই অর্থকে রয়্যালটি বাবদ দেওয়া টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: “ও ভালো ছাত্র, রোজ রাতে গীতা পড়ত” সন্তান হারিয়ে আবেগঘন মন্তব্য প্রহ্লাদের মায়ের
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির নিবিড় সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও মঞ্চে দু’জনের একসঙ্গে গান গাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এমনকি সাংবাদিক বৈঠকে ‘আমার যাওয়ার সময় হল’ গানটির কয়েকটি লাইন গেয়েও ইন্দ্রনীলকে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, দুর্নীতির অভিযোগে যুক্ত আরও বড় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।










