সৌভিক মুখার্জী, ভাঙড়: “মাছ চোর, মাছ চোর, শওকত তো মাছ চোর।” না, ভুলভাল কিছু লিখছি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ট্রেন্ডিং এই গান (Mach Chor Song)। কারণ? ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী তথা ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লা (Saokat Molla)। আসলে সেখানকার বিরোধী নেতা আইএসএফ-র নওশাদ সিদ্দিকী। বেশ কিছু রিপোর্টের দাবি, ভোটের আবহে ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শওকত মোল্লাকে নিয়েই আইএসএফ-র (ISF) কর্মীরা এই গান রিলিজ করেছে। আদৌ এই গানের পিছনে কী রহস্য লুকিয়ে আছে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং ‘মাছ চোর’ গান
আসলে ভোটের প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে এসে শওকত মোল্লাকে নিশানা করে ‘শওকত মাছ চোর’ নামক এই গানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, নওশাদ সিদ্দিকীর কর্মীরাই শওকত মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে এই গানটি ব্যবহার করেছে আর স্লোগান দিচ্ছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই গানটি এতটাই ভাইরাল যে তৃণমূল থেকে শুরু করে বিজেপি, আইএসএফ, বাম প্রত্যেক সমর্থকরাই উচ্ছ্বাসে মত্ত।
আসলে আমরা একটু অতীত ঘাটলে জানতে পারব, তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা একবার প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছে জিবনতলায় একটি বাস টার্মিনাল বানানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে মমতা বিধায়ককে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেছিলেন যে, “তোরা তো ওখানে মারপিট করিস আর বোমা বাঁধিস। ওখানে বাস টার্মিনাল কীভাবে হবে?” এখান থেকেই এই গানের লিরিক্স—“বোম বাধা কাজ ওঁর…শওকত তো মাছ চোর!”
একদিকে আরও এক পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে জানা যাচ্ছে, ভাঙড়ের অপর এক তৃণমূল নেতা কায়দার আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে একবার বলেছিলেন যে, ভাঙড়ের মানুষ ওঁকে ‘মাছ চোর’ আর ‘ক্রিমিনাল’ হিসেবেই ট্রিট করে থাকে। তাঁর কথায়, শওকত নিজেই তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তিনি নাকি ছোটবেলায় মাছ চুরি করতেন। তিনি গরিব ছিলেন। তাই সংসার চালানোর জন্য মাছ চুরিকে বেছে নিয়েছিলেন, এবং সেই চুরি করা মাছ ক্যানিংয়ে বিক্রি করতেন। যেখান থেকেই এই গানের লিরিক্স।
প্রতিক্রিয়া দিলেন স্বয়ং শওকত মোল্লা
তবে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে শওকত মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক তথা ভাঙড়ের প্রার্থী শওকত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে, নোংরামির একটা লিমিট থাকা দরকার। যারা এই সমস্ত কাজ করছে তারা তাদের নিচু মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। এক কথায়, নাম না করে তিনি সরাসরি নওশাদ সিদ্দিকীকে আক্রমণ করেছেন। আর তিনি তাঁকে ধর্ষণকারী, খুনি, সমাজবিরোধী আর জঙ্গি বলেও কটাক্ষ করেন।
তাঁর সংযোজন, হতাশা থেকেই আইএসএফ-র দল এই ধরনের গান বানিয়েছে। আর যারা এই সমস্ত কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত। এমনকি শওকত এই গানের যোগ্য জবাব দেবেন বলেও হুংকার দেন। তিনি বলেন যে, আগামী ৪ মে ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর সবকিছুর জবাব হবে।
আরও পড়ুন: তাপপ্রবাহ কাটিয়ে দক্ষিণবঙ্গে এখন ঠান্ডা, কতদিন চলবে বৃষ্টি? জানাল আবহাওয়া দফতর
কীভাবে বানানো হল এই গান?
যদিও আইএসএফ-র তরফে এই গানটি রিলিজ করা হয়েছে। তবে এটুকু নিশ্চিত বলা যায় যে, এই গানটি সম্পূর্ণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই দিয়ে বানানো হয়েছে। কারণ, বর্তমানে ছবি বানানো থেকে শুরু করে ভিডিও বা অডিও, এআই-র ব্যবহার রমরমিয়ে বাড়ছে। যদিও আইএসএফ বা নওশাদ সিদ্দিকীর তরফে এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।










