ভারতীয় রেলের ইতিহাসে প্রথম, বুলেট ট্রেন প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে ‘টানেল হুড’ প্রযুক্তি

Published:

Bullet Train Tunnel Hood

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের বহু প্রতীক্ষিত প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ (Mumbai-Ahmedabad Bullet Train) রুটে প্রথম চালু হবে এই দ্রুতগতির ট্রেন পরিষেবা। তবে এই প্রকল্পটি শুধু তার গতিতেই নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশলেও ইতিহাস গড়তে চলছে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডোর তৈরির জন্য ‘টানেল হুড’ (Tunnel Hood) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভারতীয় রেলের (Indian Railways) ইতিহাসে এই প্রথম। এই প্রযুক্তিটি করিডোরের পাহাড়ি টানেলগুলিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে। আসুন তাহলে এই নয়া প্রযুক্তিটি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক। 

পাহাড়ি সুড়ঙ্গে থাকবে ‘টানেল হুড’ 

মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডোরে মোট আটটি পাহাড়ি টানেল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি টানেল থাকবে মহারাষ্ট্রে এবং একটি পড়বে গুজরাটে। এই প্রজেক্টের  ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের একটি অভিনব বৈশিষ্ট্য হল এই সমস্ত টানেলের ঢোকা এবং বেরোনোর মুখে থাকছে বিশেষ ‘টানেল হুড’। এটি ট্রেনগুলিকে চলাচল করার সময় যেকোনো রকমের প্রযুক্তিগত ও প্রাকৃতিক বাধার থেকে রক্ষা করবে।

‘টানেল হুড’ আসলে কী? 

‘টানেল হুডের কার্যকারিতা বোঝার জন্য এর পিছনের বিজ্ঞানকে আগে জানতে হবে। যখন একটি বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে একটি সংকীর্ণ সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে, তখন এটি তার সামনের বায়ুকে দ্রুত আরও সামনের দিকে ঠেলে দেয়, অনেকটা সিলিন্ডারের ভিতরে থাকা পিস্টনের মতো। এর ফলে টানেলের ভিতরে বায়ুচাপ প্রচণ্ড বেড়ে যায় এবং শক্তিশালী তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। এই চাপ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে, ট্রেনটি টানেল থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে বাতাসও প্রচন্ড শব্দ করে বের হবে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলে ‘টানেল বুম’।

আরও পড়ুনঃ এই রেশন কার্ড থাকলে মিলবে না আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা, জেনে নিন এখনই

টানেল বুম থেকে বাঁচার জন্য টানেলে ঢোকা ও বেরোবার মুখে তৈরি করা হচ্ছে একটি সুরক্ষামূলক ঢাল বা বাফার জোন, যা টানেল হুড নামে পরিচিত। এটি বুলেট ট্রেনকে হঠাৎ করে খোলামেলা পরিবেশ থেকে বদ্ধ টানেলে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে। তার বদলে টানেলের আবরণের মধ্য দিয়ে একটি সহজ ও  ধারাবাহিক পথ তৈরি করে দেয় এই বিশেষ পদ্ধতি।